এ এস কাঁকন, মৌলভীবাজার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। গত এক যুগ মানুষ একাত্তরের মতো ভোটের জন্য লড়াই করেছে। মানুষের ভোট আর কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।
তিনি আরও বলেছেন, মানুষ এখন শান্তি চায়, কাজ চায়, স্থিতিশীলতা চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা চায় আর শিক্ষার ভাল সুযোগ চায়।
বুধবার (১৭ জুন/৩ আষাঢ়) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন।
একাত্তর সালে একটি দলের ভূমিকার সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, মানুষ তা ভুলেনি। ভুলেনি তারা ১৯৮৬ সালে কি করেছিলো। গত এক যুগের আন্দোলনেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তারা এখন আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোন চিন্তা করতে হবে না।”
তারেক রহমান বলেন, ”অতীতে দেশের জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে অর্থ পাচার রোধ করবো। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিএনপি সরকার সবার কল্যাণে কাজ করতে চায়।”
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান, বিএনপির আহ্বায়ক মো ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে একযোগে এখান থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন।
পরে তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তার চেক উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।