নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সিলেট জেলা শাখা ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর/৩০ কার্তিক) বেলা সাড়ে ১১টায় মহানগরীর একটি হোটেলে আহুত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো জুনেদ আহমদ।
তিনি বলেন, এনসিপি বিশ্বাস করে, সিলেট বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জ্ঞান, প্রবাসী অবদান, গণতান্ত্রিক চেতনা ও চিরন্তন আধ্যাত্মিক বাংলার প্রাণকেন্দ্র। এই অঞ্চলের মানুষ সবসময়ই তার ন্যায্য অধিকার, সম্মান ও উন্নয়নের দাবিতে সোচ্চার থেকেছে; কিন্তু বাস্তবতা হলো, দীর্ঘ সময় ধরে সিলেট অঞ্চল দেশের উন্নয়ন প্রবাহে তার ন্যায্য হিস্যা পায়নি। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে এখনও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি সিলেটে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, এনসিপি সিলেটের ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গৌরব এবং সহনশীল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রাজনীতির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করছে। এনসিপি বিশ্বাস করে, রাজনীতি মানে জনগণের সেবা, নাগরিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠন। এনসিপি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং দলটি নীতিনিষ্ঠ ও সেবা-ভিত্তিক নাগরিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
এনসিপি নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে যখন দেশের প্রতিটি অঞ্চল উন্নয়নে সমান সুযোগ পাবে। এনসিপি চায় সিলেট অঞ্চল প্রাপ্য উন্নয়ন বরাদ্দ, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো বিনিয়োগে ন্যায্য হিস্যা পাক। আর এই লক্ষ্য অর্জনে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক কমিটি নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
সিলেটের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা শক্তিশালী করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স নয়, আধুনিক চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ নিয়ে আসেন। তাদের অংশগ্রহণ সিলেটের উন্নয়নকে বহুগুণ বাড়াতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সিলেটের উন্নয়নে এনসিপির ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো, নাগরিক ফোরাম গঠন করে সিলেটের উন্নয়ন, সেবা ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা; তরুণ প্রজন্মকে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকারকেন্দ্রিক ও দায়িত্বশীল রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা; নাগরিক অধিকার, দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে নিয়মিত জনসংলাপ আয়োজন; প্রবাসী ও স্থানীয় নাগরিকদের সংযুক্ত করে ‘নাগরিক উন্নয়ন তহবিল’ গঠনের প্রস্তাবনা তৈরি; পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান-এই চার খাতে জেলা পর্যায়ে নাগরিক অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন এবং যেকোনো অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ জারি রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা কমিটির সদস্য সচিব কামরুল আরিফসহ অন্যান্য নেতা।