আসন্ন জালালাবাদ এসোসিয়েশন নির্বাচন উপলক্ষে কিছু কথা || মো আব্দুল মালিক

প্রকাশিত July 23, 2026
আসন্ন জালালাবাদ এসোসিয়েশন নির্বাচন উপলক্ষে কিছু কথা || মো আব্দুল মালিক

ঐতিহ্যবাহী জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকা ১৯৪৮ সালে এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হয়। সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানে সিলেটবাসী গণভোটের মাধ্যমে ভারতের আসাম ত্যাগ করে পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হন, যা পরবর্তীতে ‘পূর্বপাকিস্তান’ নাম ধারণ করে। তখন যেসব সিলেটবাসী কর্মকর্তা-কর্মচারী ভারত ত্যাগ করে পাকিস্তানের ঢাকায় কাজে যোগদান করেন, মূলত: তাঁদের সুবিধা-অসুবিধায় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে এই এসোসিয়েশনের সৃষ্টি হয়েছিল।
উদ্যোক্তারা অত্যন্ত ভালো একটি কাজ করেছিলেন, আমি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। কারণ তখন ঢাকায় বর্তমানের মতো থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছিলোনা। ঢাকায় তখন সিলেটি এমন কেউ ছিলেননা যার সাহায্য নেওয়া যায়। তাঁদের গতিশীল নেতৃত্বে এসোসিয়েশন এগিয়ে যায় এবং ফলে ফুলে সুশোভিত হয়।
তখন এই এসোসিয়েশনের মূল দায়িত্ব ছিল সদস্যদের সুবিধা অসুবিধা দেখা; কিন্তু বর্তমানে দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক গুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে এই এসোসিয়েশন শুধু ঢাকাস্থ সিলেটবাসীর সংগঠন নয়, এটি এখন হয়ে উঠেছে সিলেটবাসীর কণ্ঠস্বর, আশ্রয়স্থল, সিলেট বিভাগবাসীর নয়নের মণি। এর মাধ্যমে সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে, সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে সিলেটের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিবে। মোদ্দাকথা জালালাবাদ এসোসিয়েশন এখন হচ্ছে, সিলেটবাসীর আশা ভরসার স্থল বা অভিভাবক; কিন্তু বাস্তবে কি জালালাবাদ এসোসিয়েশন সিলেটবাসীর আশা ভরসার স্থল বা অভিভাবক হয়ে উঠেছে? আমার মনে হয়, হয়নি।
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে, সুবিধা অসুবিধা নিয়ে, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণ সদস্যদের কথা বলার সুযোগ খুবই সীমিত। বৎসরে একবার সাধারণ সভা হয়, সেই সাধারণ সভায় কথা বলার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়, পাওয়া যায় না বললেই চলে। তাই এই লেখার অবতারণা।
১) জালালাবাদ এসোসিয়েশনের যেমন একটি সুন্দর ভবন ও কার্যালয় আছে, তেমনিভাবে একটি গঠনতন্ত্রও আছে। তবে তা সংশোধনীর কবলে পড়ে এর জৌলুস হারিয়েছে বলে মনে হয়। যেমনি হারিয়েছে আইনি ধারার ক্ষেত্রে, তেমনি হারিয়েছে ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে। একটি উদাহরণ-‘ঢাকাস্থ জালালাবাদবাসী’নির্বাচনের যোগ্য, ঢাকার বাইরে যেমন সিলেটে বসবাসরতরা নির্বাচনের অযোগ্য। কিন্তু ‘ঢাকাস্থ’বলতে কী বোঝাবে তা সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ঢাকা ছিল আগে একটি শহর, এখন হয়েছে দুটি মহানগর, ঢাকা একটি জেলা, ঢাকা একটি বিভাগ। আজকের দিনে গাজীপুরকেও ঢাকা বলা হচ্ছে; কিন্তু আইনের ক্ষেত্রে গাজীপুর আলাদা একটি জেলা। তাই ‘ঢাকাস্থ’শব্দের ব্যাখ্যা সহ সংবিধানে আরো সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন, ভাষাগত পরিমার্জন প্রয়োজন। নতুবা ভবিষ্যতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২) জালালাবাদ এসোসিয়েশন সমাজকল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত নয়। পাকিস্তান আমলে একটি রেজিস্ট্রেশন ছিল যা বর্তমানে কার্যকর নয়। ফলে জালালাবাদ এসোসিয়েশন সরকারি কোনো অনুদান পায় না, সম্মাননার জন্য আবেদন করতে পারে না। নিকট অতীতে জালালাবাদের দুজন কৃতি সন্তান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও একজন সচিব ছিলেন। সহজে রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার সুযোগ ছিল, অনুদান ও সম্মাননা পাওয়ার সুযোগ ছিল; কিন্তু কোনো কিছুই পায়নি রেজিস্ট্রেশন না থাকায়।
৩) জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যদের মতামত প্রদানের সুযোগ নেই বললেই চলে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৫০,০০০/- টাকা ব্যয়ে যে এসএমএস দেওয়া হয়, সেই এসএমএস প্রথা বাতিল করে সকল সদস্যকে নিয়ে একটি, প্রয়োজনে একাধিক হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ সৃষ্টি করে, সেই গ্রুপে এসোসিয়েশনের যেকোনো সংবাদ যদি দেওয়া হয় তাহলে বিষয়টি সদস্যদের মধ্যে সীমিত থাকবে, সদস্যরাও এডমিনের মাধ্যমে গ্রুপে মতামত দিতে পারবেন, অন্যদিকে টাকাও সাশ্রয় হবে। ফলে সদস্যরা কী চান? কেন চান? কীভাবে চান? ইত্যাদি কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে জানা সহজ হবে, সে অনুযায়ী কর্মসূচি নেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে অনেকে ফেসবুক বা অন্যান্য গ্রুপে এসোসিয়েশন বিষয়ে যা লিখে থাকেন তা সর্বসাধারণের মধ্যে চলে যায়, যা এসোসিয়েশনের সুনামের জন্য কাম্য নয়।
৪) শিক্ষা ও চাকরি-বাকরির ক্ষেত্রে জালালাবাদের আগের জৌলুস এখন আর নেই। তাই একে পুনরুদ্ধারের জন্য জালালাবাদ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা থেকে কামিল মাদ্রাসা, বিশেষায়িত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদেরকে যথাযথ গাইড প্রদান ও দরিদ্র হলে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। শুধুমাত্র বিসিএস ক্যাডারই অবদান রাখেন তা নয়, একজন পিয়ন, কেরানিও অনেক সহযোগিতা করতে পারেন।
৫) জালালাবাদ অঞ্চলের মন্ত্রী, এমপি ও অন্যান্য স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরকে জালালাবাদ অঞ্চলের কোথায় কী ধরনের সমস্যা ও সম্ভাবনা রয়েছে, কীভাবে এর সমাধান করা সম্ভব, তিনি কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে সম্পর্কে তাঁদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে ওয়াকিবহাল করা, ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ আদায় করা সময়ের দাবি।
৬) জালালাবাদ অঞ্চলের এখনো কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করে, তাঁদের সাথে যোগাযোগ করে, তাঁরা কীভাবে জালালাবাদ এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন সে উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। বর্তমানেও কয়েকজন সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব সহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন তাঁরা চাইলে তাঁদের ক্ষমতার মধ্যে অনেক কিছু করতে পারেন। উদহারণ হিসেবে বলা যায়-প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের অধীনে ৩৮টি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। তম্মধ্যে সিলেট বিভাগে একটি মাত্র র্বোড স্কুল রয়েছে। সিলেট বিভাগের ২টি ক্যান্টনমেন্টে বোর্ড স্কুল আছে ১টি। অথচ কুমিল্লা ১টি জেলা, ক্যান্টনমেন্ট আছে ১টি; কিন্তু ৩টি র্বোড স্কুল ও ১টি বোর্ড কলেজ আছে। কয়েক বৎসর থেকে সিলেটের একজন কৃতি সন্তান প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অধীনস্থ সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের ডিজি প্রতিনিয়ত তাঁর সাথে দেখা করে সারা বাংলাদেশের জন্য অনেক কিছুর অনুমোদন নিয়ে আসছেন। তিনি যদি শুধু তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন, সিলেটের অবস্থা কী? বা তাঁর পিএস দিয়ে বলাতেন, তাহলে অনেক উন্নয়ন হয়ে যেত। বর্তমান ডিজি সিলেট ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলে প্রায় ১,২০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১৫টি শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট ৫ তলা একটি ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। সেই ভবনে লিফ্ট নেই, পর্যাপ্ত ওয়াশরুমও নেই। কে তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করবে। অথচ সচিব মহোদয় এ বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির বাসিন্দা।
৭) জালালাবাদবাসী অনেকেই দেশে-বিদেশে চাকুরী/ ব্যবসা করেন। অনেকেই কর্মস্থলে নানা অন্যায় ও অনিয়মের শিকার হন; কিন্তু প্রতিকার চেয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা আছে সিলেটবাসীর? জালালাবাদ এসোসিয়েশনকে এই দায়িত্ব নিতে হবে।
৮) পূর্বপাকিস্তানের ১৯ জেলার মধ্যে ১৭ জেলার ডিসি নাকি ছিলেন সিলেটের। কথাটা আক্ষরিক অর্থে, মনে হয় সত্য নয়; কিন্তু এর দ্বারা সিলেটিদের আধিক্য প্রমাণ করে। স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি এবং গড়তে সিলেটিদের অবদান শীর্ষস্থানীয়। সিলেটিদের টাকা পয়সা অতীত থেকেই ছিল। দেশ স্বাধীনের পর সরকারে সিলেটিদের অবস্থান ভালোই ছিল, বিশেষ করে পররাষ্ট্র, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সিলেটিদের হাতে ছিল; কিন্তু সিলেটের কাক্ষি্খত উন্নয়ন কোথায়? আলহাজ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সিলেটের দাবি-দাওয়া উত্থাপনের জন্য তাঁরই প্রস্তাবে গণদাবী পরিষদ সিলেট প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন জালালাবাদ এসোসিয়েশন এগিয়ে গেলে তিনি গণদাবী পরিষদের প্রয়োজন মনে করতেন না। বেসরকারি ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছেন সিলেটি মন্ত্রী, সচিব ও কর্মকর্তারা; কিন্তু সিলেটি মালিকানাধীন ব্যাংক আছে কয়টি? সেভাবে শিল্প, পরিবহন খাতের দিকে তাকান? আমরা সিলেটবাসীরা বলি, আমরা ধনী। প্রবাসে ধস নামুক তখন বুঝা যাবে সিলেটিরা কতটা ধনী? সিলেটের মাটিতে অন্যরা ব্যাংক, বীমা, শিল্প স্থাপন করে টাকার পাহাড় গড়ছে, আমরা আঙ্গুল চুষছি। আমাদের উর্ধ্বতন ব্যাংকার ছিলেন, সচিব ছিলেন, জালালাবাদের বিজ্ঞ নেতা ছিলেন। এধরনের অনেক সংগঠনের নামে ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় আছে, জালালাবাদের আছে?
৯) একজন ক্যান্সার রোগী আর্থিক সাহায্যের জন্য আমার শরণাপন্ন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করে জালালাবাদ এসোসিয়েশনে আবেদন করার জন্য বলি। রোগীর চিকিৎসাপত্র ইত্যাদি ফটোকপি করে কুরিয়ার সার্ভিসে আবেদন পাঠান। কিছুদিন অপেক্ষার পর রেজাল্ট না পেয়ে রোগী আমার সাথে যোগাযোগ করেন। আমি জালালাবাদে ফোন করে জানলাম, বর্তমানে এই ফান্ডে কোনো টাকা নেই। জালালাবাদ এসোসিয়েশনের মতো একটি বিরাট প্রতিষ্ঠান যদি মৃত্যু পথযাত্রী একজন রোগীকে তাৎক্ষণিক সামান্য আর্থিক সাহায্য করতে না পারে তাহলে কেমন হয়? এই রোগী শেষ পর্যন্ত ইহধাম ত্যাগ করেছেন। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
১০) বর্তমানে বার্ষিক সাধারণ সভা হয় এক পারিবারিক মিলন মেলা। না, বার্ষিক সাধারণ সভা হবে শুধু সদস্যদের নিয়ে। ম্যাগাজিন সহ সকল ধরনের রিপোর্ট একটি ফাইলে বা ব্যাগে আগে থেকে গুছিয়ে রাখা হবে। একজন সদস্য সভাকক্ষে ঢুকার সময় তার সাক্ষর নিয়ে ফাইল বা ব্যাগটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে সভায় হৈ চৈ কম হবে। মোদ্দা কথা, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেভাবে এজিএম করে সেভাবে করতে হবে। সেখানে সাধারণ সদস্যদের কথা সংক্ষেপে হলেও শুনতে হবে। তাদের বক্তব্যের পয়েন্ট নোট করে রাখতে হবে এবং সকলের বক্তব্যের শেষে সভাপতি / সম্পাদক বা দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি এসবের জবাব দিবেন এবং সদস্যদের অভাব অভিযোগ প্রস্তাব সংক্ষেপে লিখে রাখতে হবে। পরবর্তী এজিএমে প্রকাশিত ম্যাগাজিন বা রিপোর্টে তা উল্লেখ করে এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা লিখে জানাবেন।
১১) জালালাবাদ এসোসিয়েশন অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। এর নেতৃত্বও এরকম হওয়া উচিত। উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, ব্যস্ত ব্যবসায়ী বা অধিক বয়স্করা অনেক সময় বাস্তবতার কারণে যথাযথ নেতৃত্ব দিতে পারেন না । ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁর অবস্থানের কারণে তাঁর পক্ষে অনেক কাজ করা সহজ কিন্তু প্রায়শ: দেখা যায় তারা নিজ দায়িত্বের বাইরে যেতে চান না চাকুরির খাতিরে। অবার সরকার বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা চাপ দেওয়া তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। নেতৃত্ব নির্বাচনে এসব দিক বিবেচনার দাবি রাখে।
১২) রাজশাহীর মিষ্টি পানের জিআই সনদ আছে রাজশাহীবাসীর; কিন্তু খাসিয়ার ঝাল পানের জিআই সনদ নেই। তেমনিভাবে সিলেটের কমলা, সাতকরা, জাফলংয়ের পাথর, সারির বালু, জলঢুবের আনারস, শ্রী মংগলের চা, লেবু, আনারস, হরিপুরের জাড়া লেবু, নাগা মরিচ, গোলাপগঞ্জের গোয়ালগাদ্দা উরি, মনিপুরি তাঁতের শাড়ি, বালাগঞ্জের শীতল পাটি ইত্যাদির জিআই সনদ কী সিলেটবাসীর আছে? না থাকলে কে উদ্যোগ নেবে? অবশ্যই জালারাবাদ এসোসিয়েশন।
১৩) জালালাবাদ এসোসিয়েশনকে এখন হতে হবে জালালাবাদের ফোকাল পয়েন্ট। জালালাবাদবাসীর যেকোনো সমস্যা, সম্ভাবনা জালালাবাদ এসোসিয়েশনে যাবে বা এসোসিয়েশন সংগ্রহ করে সমাধানের উদ্যোগ নিবে এই প্রত্যাশা জালালাবাদবাসীর। আগামীদিনের নেতৃত্ব তা কীভাবে নিবেন তা এখন দেখার বিষয়।
পরিশেষে কবির ভাষায় এই লেখার সমাপ্তি করতে চাই- ‘নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভাল,
যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।
সবাই মোরে ছাড়তে পারে, বন্ধু যারা আছে,
নিন্দুক সে ছায়ার মত থাকবে পাছে পাছে।
বিশ্বজনে নিঃস্ব করে পবিত্রতা আনে,
সাধক জনে নিস্তারিতে তার মত কে জানে?
বিনামূল্যে ময়লা ধুয়ে করে পরিষ্কার,
বিশ্বমাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?
নিন্দুকে সে বেঁচে থাকুক বিশ্ব হিতের তরে;
আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে’।
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এই কবিতার মর্মানুযায়ী এই লেখার বিষয়বস্তু জালালাবাদবাসী গ্রহণ করবেন এটাই প্রত্যাশা করছি।

মো আব্দুল মালিক || প্রাক্তন শিক্ষক ও লেখক