উজানে ভারি বৃষ্টির প্রভাবে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতে বন্যা ও যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে সিলেট জেলা তথ্য অফিস। পাশাপাশি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুসারে, সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর কানাইঘাট, আমলশিদ, শেওলা ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সবকটি পয়েন্টে পানি এখনও বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। গত কয়েকদিনে উজানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদ-নদীতে পাহাড়ি ঢলের চাপ তীব্র হয়েছে। এতে সিলেট জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে কিংবা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিজনিত সম্ভাব্য বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় সিলেট জেলা তথ্য অফিস সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত সড়ক প্রচার ও মাইকিং অব্যহত আছে। সময়মত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া এবং বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে এ প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়াও জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বন্যা পরবর্তী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জেলা তথ্য অফিসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে দুর্যোগ মোকাবিলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে।
সিলেটে যে কোনো বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার ৩১৯ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১ হাজার ২৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন, জিআর চাল ১৭৫ মেট্রিক টন ও নগদ অর্থ ১০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৪১০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, সিলেট জেলার মোট ১০৫টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে। এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলায় জরুরি ওষুধ, খাবার স্যালাইন (২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ প্যাকেট), পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট (১ লাখ ৪২ হাজার ২০০), কলেরা স্যালাইন (১০ হাজার ২১৫ প্যাকেট) ও এন্টি-স্নেকভেনম (১৭৬ ভায়াল) সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে সকলকে কর্মস্থলে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, উদ্ভূত বন্যা পরিস্থতিতে সিলেট জেলায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এছাড়া জেলার কোথাও পাহাড়ধস, ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস কিংবা ভূমিধসে কেউ আহত বা নিহত হয়নি। পিআইডি সিলেট