পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও সম্প্রীতির এমন নজির বিরল : সিলেটে বাণিজ্য মন্ত্রী

প্রকাশিত July 24, 2026
পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও সম্প্রীতির এমন নজির বিরল : সিলেটে বাণিজ্য মন্ত্রী

শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করেন। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও সম্প্রীতির এমন নজির বিরল।
শুক্রবার (২৪ জুলাই/৯ শ্রাবণ) শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও শুভদ্রা মহারানীর রথযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন সিলেট আয়োজিত আলোচনা সভা ও উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “এই ছোট ভূখণ্ডে ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের বসবাস। সীমিত সম্পদ ও সীমিত পরিসরের মধ্যেও আমরা পরস্পরের প্রতি যে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রেখেছি, সেটিই আমাদের গণতন্ত্রের অন্যতম শক্তি। আমি মুসলমান হিসেবে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী। তবে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিতি সেই অধিকারকে সম্মান জানানো ও তা রক্ষার অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।”
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সরকার মসজিদের উন্নয়নের পাশাপাশি মন্দির সহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। গত পাঁচ মাসে আমরা সমানভাবে মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নকাজ করেছি। সম্প্রতি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চালিবন্দরে আধুনিক শ্মশান কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়েছে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রীতির এই ধারা আরও শক্তিশালী করবো।”
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন-সিসিক প্রশাসক, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট সম্প্রীতির নগরী। এখানে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। একে অন্যের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে অংশগ্রহণের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিই সিলেটের সবচেয়ে বড় শক্তি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইসকন বাংলাদেশের সহসভাপতি শ্রীমৎ স্বামী ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো এনামুল হক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু ও ইসকন সিলেটের সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক বুদ্ধিগৌর দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসকন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ভাগবত করুণা দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নিতাই দাস।
সিলেটের রিকাবীবাজারের রথযাত্রা প্রাঙ্গণের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটি দায়িত্ব পালন করে। সহযোগিতায় থাকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন-ছিল এবারো। রথযাত্রা মহোৎসব নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রতিটি রথ মন্দির থেকে আনা-নেওয়া করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি