সিলেট থেকে মাদক ও জুয়া চিরতরে নির্মূল করা হবে : খন্দকার মুক্তাদির

প্রকাশিত March 16, 2026
সিলেট থেকে মাদক ও জুয়া চিরতরে নির্মূল করা হবে : খন্দকার মুক্তাদির

শিল্প ও বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে।
তিনি আরো বলেছেন, নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আধুনিক বিনোদন পার্ক স্থাপন করা হবে। সমাধান করা হবে সুপেয় পানির সমস্যা। সিলেট থেকে মাদক এবং জুয়াও চিরতরে নির্মূল করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ/২ চৈত্র) সকালে সিলেট মহানগরীর শারদা স্মৃতি ভবনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো রেজা-উন-নবী, জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক মো সারওয়ার আলম ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
শিল্প ও বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “আমরা এমন একজনকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছি, যার ওপর দেশের প্রধানমন্ত্রী আস্থাশীল। তার নেতৃত্বে আগামীতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।”
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের উন্নয়নে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির কারণে যাতে ইমামদের চাকরি না যায় কিংবা চাকরি হারাতে না হয়, সে জন্য একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যাতে ৪-৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন সেভাবে সম্মানী নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সব উন্নয়ন কাজের স্থানীয় তদারকি কমিটিতে ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যে সম্মানী পান তা অপ্রতুল। তাই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিসিকের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সামান্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সবাই মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই মূল লক্ষ্য।
নগর উন্নয়নে ইমামদের সহযোগিতা কামনা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ছিল ২৭টি ওয়ার্ড, এখন হয়েছে ৪২টি। এত বড় নগরীর সব সমস্যা একা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, যদি না নগরবাসী সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।
তিনি বলেন, “আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। ইমামগণ যদি জুমার খুতবায় নগরবাসীকে সচেতন করেন তাহলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হবে। সবাই নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখলে এবং খাল-ছড়ায় ময়লা না ফেললে আমরা পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে পারবো।”
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগরীর ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম ও ১ হাজার ২০১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী বিতরণ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি