সিলেটে ৩ খুনের নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত August 31, 2026
সিলেটে ৩ খুনের নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি’ মহানগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবীণ ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, তার সহধর্মিণী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত দাবি করেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট/১৬ শ্যাবণ) মহানগরীর এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটির সমন্বয়ক মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, সিলেট মহানগরীর রিকাবীবাজারে নির্মাণাধীন ইম্পালস টাওয়ারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে চলছে আইনি লড়াই। আবদুস সাত্তার চলমান ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও দুর্নীতির মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
আব্দুস সাত্তার ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক জিআর ০২/২০২১) মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী। দীর্ঘদিন ধরে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
তিনি কোতয়ালি সিআর ১৩৬৪/২০২৩, কোতোয়ালি সিআর ৮১৫/২০২৪ এবং স্বত্ব ২১১/২০২৩ নম্বর মামলারও বাদি ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতবছর ২৯ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সন্ত্রাসী সহ লিজ গ্রহীতা আব্দুস সাত্তারের বাসায় গিয়ে ২১১/২০২৩ নম্বর স্বত্ব মামলা প্রত্যাহারের জন্যে বলেন; কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখান করলে সিরাজুল ইসলাম হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকলে আব্দুস সাত্তারের মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেলিনা সুলতানা গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (৮৪২ নম্বর) করেন। এ ঘটনা মোবাইলে রেকর্ড আছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর ১৮ মে আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম কর্তৃক হামলায় আহত হয়ে আব্দুস সাত্তার ও তৌহিদুল ইসলাম ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার সিআর ১০৫৭/২০২৫ নম্বর মামলা ডিবি সিলেটে তদন্তাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, ৫৬৪/৯৬ নম্বর ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ১৮৫২২/২০০৬ নম্বর জাল ও অবৈধ দলিল তৈরি করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির মালিকানাধীন জায়গা দখল করে বহুতল ‘ইম্পালস টাওয়ার’ নির্মাণ করেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি অ্যাক্ট ১৯৪৭ (ধারা ১০ ও ৭/৫) এবং স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট ১৯৫০ (ধারা ৯০/৫) অনুযায়ী, গির্জা ও কবরস্থান শ্রেণির এই নিষ্কর ভূমি সম্পূর্ণ অ-হস্তান্তরযোগ্য। এসএ রেকর্ডেও স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে এটি খ্রিস্টান সাধারণের ব্যবহার্য গির্জা ও কবরস্থান। অতিরিক্ত যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত (স্বত্ব ৩৭/২০১২) ১৮৫২২/২০০৬ এবং ১৪০৬২/২০০৫ নম্বর দলিল দুটিকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট বিভাগ ৪৮৪/২০১৪ নম্বর ফার্স্ট আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
ভূমি জালিয়াতি ও কবরস্থানকে বেআইনিভাবে ‘বাড়ি’ শ্রেণিতে পরিবর্তনের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক মো ইসমাইল হোসেন বাদি হয়ে সিরাজুল ইসলাম, তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক জিআর ০২/২০২১ নম্বর মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগের প্রতি এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত সম্পাদন, তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে অবহিতকরণ, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা প্রদান, ভূমি-সংক্রান্ত সব নথি যাচাই, অবৈধ দখল ও জাল দলিলের অভিযোগ তদন্ত করার আহবান জানানো হয়।
সেইসাথে নিহত আবদুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম ও তাহমিনা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য নিরপেক্ষভাবে প্রকাশের আহবান জানানো হয়।