সিলেটে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ

প্রকাশিত March 10, 2026
সিলেটে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা পূর্বঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিপণন নীতি পরিবর্তন না করলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করবেন না।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ/২৫ ফাল্গুন) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতৃবৃন্দ জরুরি সংবাদ সম্মেলন এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত কয়েক দিনে সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একটি পাম্পে এক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদিন রোজা রেখে হাজার হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার পরও যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের আবেগ ও ক্ষোভ থেকে সোমবার (৯ মার্চ) এক শিফট কর্মবিরতি পালন করা হয়। তবে বিকেল থেকে যেসব পাম্পে তেল মজুত ছিল সেগুলোতে আবার বিক্রি শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি হঠাৎ একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের মার্চ মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত একটি পাম্প যত তেল উত্তোলন করেছে, তার গড়ের ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করা হবে।
অভিযোগ করা হয়, মাসকে ৩০ দিন ধরে গড় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্পে মাসে ২০/২২ দিন তেল উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি বিপণন কোম্পানিগুলোকে দৈনিক কোটা বেঁধে দেওয়ায় পাম্পগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও কমিশনের হিসাব মিলছে না।
সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় জানিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে অকটেন–পেট্রোলের ঘাটতি নেই; কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, তারা কোনো ধরনের মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নন। কেউ নির্ধারিত দামের বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিবে।
তাদের দাবি, বিপিসিকে দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিলেট বিভাগে দৈনিক প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল ও দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে; কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে অনেক কম। তাই নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হবে না। এতে বিপণন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান। এছাড়া সংগঠনের অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।