`জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেট জেলা বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন করেছে।
এ উপলক্ষে চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণে বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় মহানগরীর কুমারপাড়ায় প্লাটিনাম লাউঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রাম ও জুলাইয়ের রক্তঝরা জাগরণের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হয়।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই গণআন্দোলন সফলতা লাভ করে। বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগ, নির্যাতন, গুম, কারাবরণ ও আত্মত্যাগ এ আন্দোলনের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেছে। কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমান্বয়ে এক দফার গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ সংগ্রাম চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।
আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, এমপি।
এতে অন্যান্য বক্তা অতীতের গুম, খুন, নির্যাতন, ভোটাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলীকরণ ও দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান।
তারা জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় রাখা, মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিকভাবে মোকাবিলা করা এবং ভবিষ্যতে যেন আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা উগ্রবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে—সে বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে যথাক্রমে স্বাধীনতা অর্জন ও স্বাধীনতা-গণতন্ত্র রক্ষার দুটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে উভয় সময়ের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক ও নাজিম উদ্দিন লস্কর, উপদেষ্টা কামরুল হাসান শাহীন ও অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদার, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, মামুনুর রশিদ মামুন, আনোয়ার হোসেন মানিক, অ্যাডভোকেট আবু তাহের, অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, আবুল কাশেম ও জসিম উদ্দিন; সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ ও অ্যাডভোকেট আল আসলাম মুমিন।
এছাড়া সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লোকমান আহমদ, জয়নাল আহমদ রানু, আলী আকবর, আজিজুর রহমান, সাহিদুল হক সুহেল ও মাহবুব আলম; সহসম্পাদক অর্জুন ঘোষ, আহাদ চৌধুরী শামীম, শাহীন আলম জয়, ডা নাজিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান ফাহমী, আহমদ সোলায়মান, সুমেল আহমদ চৌধুরী, রায়হান এইচ খান, আক্তার হোসেন রাজু ও মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী এবং সদস্য আশরাফুল আলম বাহার সহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি