গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব : বাণিজ্য মন্ত্রী

প্রকাশিত August 5, 2026
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব : বাণিজ্য মন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে জবাবদিহিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দেশ পরিচালনা করবে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে সুশাসন, সততা, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়ন। এ লক্ষ্যে সিলেটে নতুন শিল্পনগরী (বিসিক শিল্প এলাকা) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৮৭ একর জমিতে এ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে, যা বিদ্যমান শিল্প এলাকার তুলনায় কয়েকগুণ বড় হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে সিলেটে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ আরও সহজ হবে, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা ও ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা তরুণদের সামাজিক শক্তিকে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে এ শক্তিকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণদের দেশপ্রেম, উদ্ভাবনী শক্তি ও অংশগ্রহণই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এম এ মালিক ও অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার মো মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড জিল্লুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, পুলিশ সুপার ড চৌধুরী মো যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পিআইডি সিলেট