সিলেট সিটি কর্পোরেশন-সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, মহানগরীতে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি নজরদারি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এর আওতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উন্নতমানের বিশেষ ক্যামেরা স্থাপন করে অপরাধীদের গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে।
শনিবার (১১ জুলাই/২৭ আষাঢ়) পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি-পুনাকের স্বাবলম্বী কর্মসূচির আওতায় সিলেট মহানগরীর অসহায় মানুষের মাঝে প্যাডেলচালিত রিকশা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসএমপি পুলিশ লাইন্সে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট-সিসিটিভি ক্যামেরার একটি অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান ক্যামেরাগুলোর প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি ও অপরাধী শনাক্তকরণে সমস্যা হচ্ছে। এ বাস্তবতায় সিসিক একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অপরাধীদের গতিবিধি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তাদের অবস্থান, চলাচল ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছে যাবে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর এর পরিচালনার দায়িত্ব সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট মহানগর পুলিশের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে পুলিশ তাদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
পুনাকের সভাপতি সিদরাতুল মুনতাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মু মাসুদ রানা।
এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সিলেট মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জীবিকার সংকটে পড়া অসহায় রিকশাচালকদের মধ্যে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি তাদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে পুনাক প্যাডেলচালিত রিকশা প্রদান করছে।
সভাপতির বক্তব্যে পুনাকের সভাপতি সিদরাতুল মুনতাহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুনাক বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ১৫ অসহায় ব্যক্তিকে প্যাডেলচালিত রিকশা প্রদান করা হচ্ছে।
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি বিত্তবান ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি