‘পাট শিল্প গড়ে তুলুন-কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে সিলেটে জাতীয় পাট দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (৬ মার্চ/২১ ফাল্গুন) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন।
জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তর আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরারীচাঁদ কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল উদ্দীন, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সুমিত্রা রায়, সহকারী কমিশনার সিহাব বিন আমিন, অ্যাডভোকেট চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ ও পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো হামীম তালুকদার।
এছাড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনারবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বিএনসিসি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, পাট এ দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। একসময় পাটকে ‘সোনালি আঁশ’ বলা হতো। পাট রপ্তানি করে দেশে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো; কিন্তু কালের বিবর্তনে পাটের সেই ঐতিহ্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। নানা প্রতিকূলতার কারণে কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
তিনি আরও বলেন, পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন। পাশাপাশি পাট চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে বীজ, সার ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা দরকার। টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পাটের ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তা বলেন, সিলেটের মাটি প্রাকৃতিকভাবে উর্বর। একসময় এ অঞ্চলে পাটের চাষ হতো। পাট চাষ সম্প্রসারণের জন্য সিলেটে পাট অধিদপ্তরের একটি কার্যালয় স্থাপন প্রয়োজন। নতুন পাটচাষী তৈরি এবং সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো গেলে সিলেটে চা শিল্পের পাশাপাশি পাটশিল্পও সমৃদ্ধ হতে পারে।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে মহনগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পিআইডি সিলেট