নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, তার আমলে নূর হোসেন আর ডা শামসুল আলম খান মিলন-শুধু এ দুই জন খুন হয়েছিলেন বলে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। অথচ এখন প্রতিদিন কত লোক খুন হচ্ছে; কিন্তু কোন বিচার হচ্ছেনা।
এ প্রসঙ্গে তিনি সাগর-রুনি, তনু ও নিশা হত্যার উল্লেখ করে বলেন, দেশে গুম-খুনের পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতিও বেড়ে গেছে; কিন্তু তার সরকারের আমলে এসব ছিলনা। তাই মানুষ পরিবর্তন চায়। আবার ক্ষমতায় দেখতে চায় জাতীয় পার্টিকে। কারণ এভাবে দেশ চলতে পারেনা।
শনিবার বিকেলে সিলেট মহানগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে এখন সবচেয়ে বড় অভাব নিরাপত্তার। নির্বিচারে মানুষ হত্যা চলছে। বেকারত্ব হচ্ছে সবচেয়ে বড় অভিশাপ। অথচ বেকারের সংখ্যা দেশে বেড়ে চলেছে।
তিনি বলেন, গত নির্বাচন সঠিকভাবে হয়নি। তবে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হবে।
দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে বলে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ উল্লেখ করে বলেন, স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়ার পর তার সাথে শর্ত মোতাবেক ব্যবহার না করে তাকে ছয় বছর কারাগারে আটকে রেখে জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়। তার সেই দুর্দিনে বৃহত্তর সিলেটবাসী তাকে সংসদীয় ৮টি আসন উপহার দিয়েছিলেন।
তিনি প্রাদেশিক সরকার গঠনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে সিলেটকে রাজধানী করে জালালাবাদ প্রদেশ গঠন করা হবে।
তখন সিলেট অঞ্চলে সংসদীয় আসন সংখ্যা বেড়ে ১০০ হবে বলে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, এখন নয়-নেতাদের কাজের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে সংসদ নির্বাচনের জন্যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
অন্যান্য নেতা বলেন, এই জনসভার মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রচার অভিযান শুরু হলো।
জনসভায় আরো বক্তৃতা করেন জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান বিরোধীদলীয় নেতা রওশান এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, কাজী ফিরোজ রশিদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদ। কয়েকজন স্থানীয় নেতাও বক্তব্য রাখেন।