সিলেটে ভাইয়ের আচরণে বোনের পরিবার ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়

প্রকাশিত January 10, 2026
সিলেটে ভাইয়ের আচরণে বোনের পরিবার ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রায়হোসেন কলবাখানি এলাকার (বাসা নম্বর ৬৭/২) রোকসানা বেগম (স্বামী আলাউদ্দিন) আপন ভাইয়ের মামলা, দখলদারিত্ব ও হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি/২৬ পৌষ) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রোকসানা বেগম জানান, তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের উপরহাজরাই গ্রামের মৃত আলকাছ আলীর মেয়ে। তারা তিন বোন ও দুই ভাই ছিলেন। এরমধ্যে এক ভাই ও দুই বোন মারা গেছেন। এখন তিনি ও তার এক ভাই জীবিত। তার ভাই আমির আহমদ মানিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তবে তিনি ঘন ঘন দেশে আসেন। তখন অবস্থান করেন সিলেটে; কিন্তু বাবা, মা ও বোনদের কোনো দায়িত্বই কখনো পালন করেননি। অথচ এখন পৈতৃক সম্পত্তি একাই ভোগ করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার ভাই কয়েক বছর আগে তাকে না বলে আদালতে নিয়ে ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে ‘হেবা’ সম্পাদন বলে চালিয়ে সমুদয় পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করে দেন। এমনকি, তার নানার কোনো বৈধ উত্তরসুরী না থাকায় তার সম্পত্তিও দখল করে ভোগ করছেন।
রোকসানা বেগম জানান, পৈতৃক সম্পত্তি দখলের জন্য আমির আহমদ মানিক ২০১৩ ও ২০১৪ সালে মিথ্যা অভিযোগে চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৯/১০টি মামলা দায়ের করেন। তবে সবগুলো মামলাই আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং তিনি, তার স্বামী ও সন্তানরা খালাস পান। এরপর থেকে ভাই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর সিলেট কোতয়ালি থানায় আমির আহমদ মানিক আরেকটি অভিযোগ দাখিল করেন। এতে তিনি অভিযুক্ত করেন রোকসানা বেগমের স্বামী আলাউদ্দিন ও আম্বরখানা সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেটের লিজা এন্টারপ্রাইজের আব্দুল হাফিজ সোহেলকে। এই দোকানটির মূল মালিক ছিলেন আব্দুল হাফিজ সোহেলের চাচা আনিছ মিয়া। ১৯৯৪ সালে তার নিকট থেকেই সেটি বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন আলাউদ্দিন। তিনি নিয়মিত বন্দোবস্ত সংক্রান্ত যাবতীয় লেনদেন আইন অনুযায়ী সম্পাদন করলেও এই মামলায় আলাউদ্দিন ও আব্দুল হাফিজ সোহেলকে কিছুদিন কারাভোগ করতে হয়।
তিনি জানান, অথচ কারাগার থেকে বের হয়ে আব্দুল হাফিজ সোহেল তার ভাই অর্থাৎ মামলার বাদির সঙ্গে আঁতাত করে আলাউদ্দিনকে দোকান থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে দোকানটির মালিকানা দাবি করে বন্দোবস্তের জাল কাগজপত্র তৈরি করে মার্কেট কমিটির কাছে গিয়েছিলেন আমির আহমদ মানিক; কিন্তু বন্দোবস্তের বৈধতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। এরপরও মার্কেট কমিটিকে জানিয়েছেন, দোকানটির মালিকানা তার। আলাউদ্দিন দ্রুত দোকানটি না ছাড়লে তাদের জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
রোকসানা বেগম জানান, তিনি ও তার স্বামী-সন্তানরা আইনি পথে বিষয়টি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। তবে যদি এরমধ্যে তার স্বামী-সন্তান বা লিজা এন্টারপ্রাইজের কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সেজন্য দায়ী থাকবেন তার ভাই ও আব্দুল হাফিজ সোহেল।
তিনি তার, স্বামীর ও সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দোকান লিজা এন্টারপ্রাইজের সুরক্ষার জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, কোতয়ালি থানার ওসি ও আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সচেতন সিলেটবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন।