মৎস্য অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো আসাদুল বাকী বলেছেন, সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গণজোয়ার তৈরি করতে হবে।
তিনি আরো বলেছেন, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি স্কুলপর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট/৩ ভ্রাদ্র) সিলেট মহানগরীর মৎস্য ভবনের মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা মৎস্য অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রাণী বিশ্বাস।
মো আসাদুল বাকী বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদিত হচ্ছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মৎস্য চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদিত মাছের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ায় দেশে মাছের উৎপাদন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন যত বাড়ানো যাবে, প্রাকৃতিক জলাশয় বিশেষ করে হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য উন্মুক্ত জলাশয়ের ওপর তত চাপ কমবে। তবে সামান্য লাভের আশায় অবৈধ ও ক্ষতিকর পন্থায় মাছ আহরণ করা যাবে না। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ উপায়ে মাছ শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছের অনেকগুলো বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মৎস্যজীবী, চাষি, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ রেখে যেতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আয়েশা আক্তার, মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুনীল মণ্ডল, সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড আন মিনান নূর ও দ্বিজরাজ বর্মন এবং সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালি সুলতানা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পিআইডি