শাল্লার শতবর্ষী চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বঞ্চিত

প্রকাশিত February 22, 2026
শাল্লার শতবর্ষী চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বঞ্চিত

হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১০৯ বছরে পদার্পণ করলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অত্যন্ত নড়বড়ে। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে। দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষক ও ২৬৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিটি মুহূর্ত পার করেন।
চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। তাই অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে সংগৃহীত বাঁশ, কাঠ ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে তাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়ান তালুকদার ও পারমিতা সরকার জানায়, তাদের খুব ইচ্ছা বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর ও স্থায়ী শহীদ মিনার হোক।
অভিভাবক সমর দাস ও সুকেশ দাস ক্ষোভের সাথে বলেন, “যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে জেনেও নিরুপায় হয়ে সন্তানদের এখানে পাঠাচ্ছি। অন্যান্য স্কুলে সরকারি বরাদ্দ পৌঁছলেও আমাদের এই প্রাচীন স্কুলটি কেন বঞ্চিত হচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”
চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার সিংহ আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে নিজেদের হাতে বাঁশ-কাঠের মিনার বানায়—এটি যেমন গর্বের, তেমনি কর্তৃপক্ষের অবহেলার এক বড় প্রমাণ। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি; কিন্তু আজো নতুন ভবন বা শহীদ মিনার নির্মাণের আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।”
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার রায়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়টি তালিকাভুক্ত আছে।
এদিকে চাকুয়া গ্রামের বাসিন্দারা অবিলম্বে আধুনিক ভবন ও স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা মনে করেন, দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে শতবর্ষী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে যাবে।