নিজস্ব প্রতিবেদক : র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সোনা মিয়া হত্যা মামলার ৬ আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
র্যাব-৯ জানায়, উপজেলার হলহলিয়া এলাকার বাসিন্দা সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমানের নিকট নজির হোসেন নামের একজনের ১ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। এই টাকা চাইতে নজির হোসেন গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় সোনা মিয়ার বাড়িতে গেলে আব্দুর রহমানের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়।
এর পরদিন সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সোনা মিয়ার বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করলে তিনি প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে বিবাদিদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
আশংকাজনক অবস্থায় সোনা মিয়াকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে গত ১৪ অক্টোবর ভোর সোয়া ৫টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার ছেলে বাদি হয়ে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ৪ পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিগণ হলো হলহলি গ্রামের শাহজাহান (৩৬, পিতা আমীর আলী), মো বিল্লাল মিয়া (৩৪, পিতা আব্দুল মোতালিব) ও জহুর মিয়া (৪২, পিতা মোহাম্মদ আলী)। এর মধ্যে ২ নম্বর থেকে ৪ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
একই দিন রাত আনুমানিক সোয়া ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মল্লিকপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৯ মামলার এজাহারনামীয় আসামি হলহলিয়া গ্রামেরই আমীর আলীর ছেলে শাহকরিম (৩৪) ও আল আমিনকে (৩২) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয় জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতদেরকে তাহিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।