নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবাসী মইনুল বাকর (প্রতীক কম্পিউটার) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি/২৫ মাঘ) দুপুরে মহানগরীর জিন্দাবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত ২১ দফা ইশতেহারে তিনি সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত জনবান্ধব প্রশাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
একই সঙ্গে মইনুল বাকর লেভেন প্লেয়িং নির্বাচনী মাঠ নেই বলে অভিযোগ করেন।
তাকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই নানাভাবে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা ও বড় দলগুলোর প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
মইনুল বাকর জানান, সিলেট-৩ আসনটি সম্ভাবনাময় হয়েও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ৫৪ বছরেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। এবার তিনি জয়লাভ করলে সমাজের সকল পেশার, ধর্মের, গোত্রের ও বর্ণের মানুষের সমন্বয়ে নগর ও উপজেলার প্রান্তিক মানুষের কথা মাথায় রেখে কাজ করবেন।
ইশতেহারে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কসহ ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চা বাগানসহ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য কমানো, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আইটি, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ প্রশিক্ষণ চালু, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ সেল গঠন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন ও হাওরকেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলা, হাওর ও পর্যটন স্পট উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ, মব জাস্টিসরোধ ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, প্রবাসী সেল গঠন, শিল্পকারখানা স্থাপন ও সারকারখানার সমস্যা সমাধান, নারীবান্ধব সমাজ গঠন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বনির্ভর অঞ্চল গড়া, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, বিশুদ্ধ পানি ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি উল্লেখ করেন।
সংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনও আমাদের সমাজে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রশাসনের লোকজন আগের মতোই আচরণ করছে। তাদের মধ্যে কোনো দায়িত্ববোধ নেই। প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো দরকার। দুর্বল পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জাতি এগোতে পারবেনা।”
নির্বাচনে তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই উল্লেখ করে জানান, তার সাইনবোর্ড খুলে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলে তারা বলে, কে এ কাজ করেছে তা জানাতে। এটা কোনো দায়িত্বশীল উত্তর হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে মইনুল বাকরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আমিনুল ইসলাম ড্যানিসহ আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তার দুই প্রবাসী মেয়ে ও মা উপস্থিত ছিলেন।