নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সিলেটে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
সকাল ১১টায় মহানগরীর চৌহাট্টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মজুমদারী এলাকায় বিমান ভবন অভিমুখে এই পদযাত্রা শুরু হবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি/১২ মাঘ) জিন্দাবাজারে মেহমান রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও নর্থ ইউকে বাংলাদেশী হেরিটেজ কাউন্সিলর’স ফোরাম নেতৃবৃন্দ।
এ সময় লিখিত বক্তব্য রাখেন ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডাইরেক্টর এম জুনেদ আহমদ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতিক নজরুল ইসলাম বাসন, ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডাইরেক্টর মিজানুর রহমান, ওল্ডহাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটি সিলেটের সমন্বয়ক সাংবাদিক ওয়েছ খছরু, ওল্ডহামের ব্যবসায়ী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কামাল রব, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হক ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশী প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী আঁখি রহমান।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২০ সালে যখন সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু হয় তখন বাংলাদেশ বিমান কর্র্তপক্ষের প্রচারণার অভাবে বিজনেস ক্লাসে যাত্রী কম ছিলো; কিন্তু গত হজ্ব মৌসুম পরবর্তী সময় থেকে বিজনেস ক্লাসে কোনো সিট খালি থাকেনি। প্রতি সপ্তাহে রবিবার ও মঙ্গলবার সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল করে থাকে। যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডে বসবাসরত ৭-৮ লাখ প্রবাসীর যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে এ ফ্লাইট চালু করা হয়। ফলে ঐ অঞ্চলের প্রবাসীরা ১২-১৩ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট পৌঁছতে পারছেন; কিন্তু যদি এ রুটটি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে প্রবাসীদের আসতে সময় লাগবে ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা। কারণ তাদেরকে আবার সড়ক পথে ৪ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গিয়ে সেখান থেকে ঢাকা কিংবা সিলেটের ফ্লাইট ধরতে হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন সিনিয়র সিটিজেন, নারী ও শিশুরা। অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়বেন সব বয়েসী মানুষ। এ কারণে অনেকেই দেশে আসতে ভয় পাবেন।
আরো জানানো হয়, গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িক স্থগিত রাখা প্রসঙ্গে যে বক্তব্য দিয়েছে তাতে প্রবাসীরা বিস্মিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। কারণ যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ শতাংশ ব্যবসা করে সেই রুটে লোকসান বলা মিথ্যাচার। এই রুটে বেশির ভাগ যাত্রী ৭শ পাউন্ড থেকে ৮শ পাউন্ডের টিকিট ১২শ থেকে ১৫শ পাউন্ডে ক্রয় করেন। বাংলাদেশ বিমানের একটি অসাধু চক্র এই টাকা লোপাট করে প্রতিমুহূর্তেই ফ্লাইটটিকে লোকসানি দেখানোর পায়তারা করছে। এ রুটটি অলাভজনক নয়। বরং যাত্রী সংখ্যা এতো বেশি যে, কয়েক মাস ধরে এ ফ্লাইটের টিকিট মিলছেনা।
বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজ সংকটের যে কয়েকটি কারণ দেখিয়েছে সেগুলোকে লাভজনক ম্যানচেস্টার রুট বন্ধ করার টালবাহানা আখ্যায়িত করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংকট উত্তরণে অলাভজনক বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট সীমিত রাখলেই হয়।
সিলেট বিদ্বেষী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ে নামা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।