নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর চৌকিদেখি এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি একটি তিনতলা বাসা গ্রাস করতে প্রবাসী ছেলে মাকে নানাভাবে হয়রানি করছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি/১৭ মাঘ) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন চৌকিদেখির ১৩৬/৩ নম্বর বাসার মালিক মৃত ওয়াহিদ আলীর স্ত্রী হাজেরা খাতুন এ অভিযোগ করেন।
হাজেরা খাতুন লিখিত বক্তব্যে জানান, তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। সবাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। ২০২৪ সালে হেবা দলিলের মাধ্যমে বাসাটি তিনি ইসলামি শরিয়া মোতাবেক ছেলে-মেয়েদের নামে লিখে দেন। তবে শর্ত থাকে যে, তার জীবদ্দশায় তিনিই মালিক থাকবেন এবং এই ঘরভাড়াসহ যাবতীয় সুবিধাদি এককভাবে তিনি প্রাপ্ত হবেন। তার মৃত্যুর পর দলিল কার্যকর হবে এবং যার যার ভাগ সন্তানেরা বুঝে নিবেন।
এই শর্ত চার সন্তান মেনে নিলেও হাজেরা খাতুনের মেজো ছেলে ওয়েস উদ্দিন তা না মেনে একাই পুরো বাসা গ্রাস করতে উদ্যত হন। এ লক্ষ্যে মামলা করেন হেবা দলিলের বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০২৩ সালে দেশে এসে কাউকে কিছু না বলে দ্বিতীয় তলা ভাঙচুর করে সামনের দিক পুনঃনির্মাণ করেন। এতে বাসার সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে গেছে। পরে তৃতীয় তলায় অহেতুক কিছু কাজ করিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগও নিয়ে আসেন। তারওপর তৃতীয়তলার ভাড়াটে গোলাপগঞ্জের হামিদুল হাসানকে নিজের পক্ষে টেনে নিয়ে তৃতীয় তলা দখল করে নেন।
ভাড়াটে হামিদুল হাসান প্রায় ৩ বছর ধরে কোনো ভাড়া পরিশোধ করেনি হাজেরা খাতুনকে। উল্টো তাকে হয়রানি করতে শুরু করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হাজেরা খাতুন জানান, এমন পরিস্থিতিতে তার বড় ছেলে লায়েস উদ্দিন দেশে এসে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে উপকমিশনার (উত্তর) হামিদুল হাসানকে ডেকে পাঠান। তিনি দুপক্ষের বক্তব্য শুনে বাসাটি ছেড়ে দিতে ও অশান্তি না করতে ভাড়াটেকে নির্দেশ দেন; কিন্তু তিনি বাসা ছেড়ে না দিয়ে তাকে (হাজেরা খাতুন) নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ভাড়াটে হামিদুল হাসান এলাকার মাদকসেবী কতিপয় যুবককে নিয়ে প্রতিদিন বাসায় আড্ডা বসান এবং বাসার মালিক হাজেরা খাতুনকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।
এসব বিষয় পুলিশকে একাধিকবার জানালে পুলিশ প্রতিবারই হামিদুল হাসানকে ডেকে পাঠালেও তিনি একবারও উপকমিশনার কার্যালয়ে উপস্থিত হননি।
সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য্য করে দুপক্ষকে ডেকে পাঠান উপ কমিশনার; কিন্তু সেদিন শুনানির আগেই উপকমিশনার কার্যালয়ের সামনে হাজেরা খাতুনের বড় ছেলে লায়েস উদ্দিনের উপর হামলা চালান হামিদুল হাসান ও তার সহযোগিরা। এতে লায়েস উদ্দিন গুরুতর আহত হন। এ বিষয়ে তিনি সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এছাড়া সম্প্রতি হাজেরা খাতুন ভাড়াটে হামিদুল হাসানকে বাসা ছাড়ার জন্য অনুরোধ করতে গেলে তিনি ক্ষেপে গিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হন। এসময় সেখানে উপস্থিত তার ছোট মেয়েকেও লাঞ্ছিত করা হয়।
এ অবস্থায় তিনি ও তার পরিবারের বাকি সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে হাজেরা খাতুন জানান এবং এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।