নিজস্ব প্রতিবেদক : র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
র্যাব-৯ জানায়, উপজেলার শিবপাশা এলাকার মো ইমন চৌধুরীকে (২০) বিদেশ পাঠাতে তার পিতা একই উপজেলার আব্দুল মুকিত ও রুমান মিয়া মাধ্যমে মোবাইল ফোনে সামায়ূন মোল্লা নামের একজনের সাথে কথা বলেন। সে ইমন চৌধুরীকে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর নিশ্চয়তা দিয়ে ২০ লাখ দাবি করে।
এক পর্যায়ে সামায়ূন মোল্লা ইমন চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে তার পাসপোর্ট, কয়েক কপি ছবি ও নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
এরপর গত বছরের ৯ জুলাই ইমন চৌধুরীকে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়া প্রেরণ করে। তখন সামায়ূন মোল্লাকে আরো ১২ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
কয়েকদিন পর উল্লেখিত মানবপাচারকারীরা ইমন চৌধুরীকে লিবিয়ার পুলিশ গ্রেফতার করেছে জানিয়ে তাকে মুক্ত করার কথা বলে আরো ২ লাখ টাকা নেয়।
আরো কয়েকদিন পর সামায়ূন মোল্লার ফোনে ইমন চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে তার পিতা জানতে পারেন যে, মানবপাচারকারীদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে তারা তাকে মেরে ফেলবে। পুত্রকে বাঁচাতে পিতা জায়গা বন্ধক দিয়ে আরো ৩ লাখ টাকা প্রদান করে ছেলেকে অত্যাচার না করে ফেরত এনে দিতে বলেন।
এরপরই মানবপাচারকারীরা ইমন চৌধুরীর পিতার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়; কিন্তু ১ অক্টোবর সামায়ূন মোল্লার আপলোড করা একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে, ৩৫ জন ছেলে মৃত অবস্থায় লিবিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে পড়ে আছে।
এমন পরিস্থিতিতে ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে ইমন চৌধুরীর পিতা বাদি হয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জের একটি আভিযানিক দল সোমবার (২৭ এপ্রিল/১৪ বৈশাখ) আনুমানিক রাত সোয়া ২টায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোড়া ইউনিয়নের অলিপুর রেল ক্রসিং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর ও ৫ নম্বর পলাতক আসামি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের রুমান মিয়া (৩৬, পিতা মৃত নীহার মনি) ও সোহাগ মিয়াকে (২৫, পিতা আলী আকবর) গ্রেফতার করে।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতদেরকে আজমিরীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।