সিলেটের ডিসি হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করেছেন || অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত April 26, 2026
সিলেটের ডিসি হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করেছেন || অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের দোকান মালিকরা (পজিশনধারী) ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক-ডিসির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ অমান্যের অভিযোগ করেছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল/১৩ বৈশাখ) দুপুরে মহানগরীর বারুতখানায় একটি রেস্টুরেন্টে আহুত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো ইনামুল করিম চৌধুরী। তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত দরপত্রের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় কোটি টাকা সেলামি প্রদান করে সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ১ নম্বর থেকে ৭ নম্বর দোকান স্থায়ীভাবে ভাড়া নেন। পরবর্তীকালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও মসজিদ ট্রাস্টের সঙ্গে পৃথক ৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তারা বৈধ ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অনেক ব্যবসায়ী আগাম ভাড়াও পরিশোধ করেছেন; কিন্তু এ বছর ১০ মার্চ মসজিদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি নোটিশে জানানো হয়, ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যমান ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং ৩ দিনের মধ্যে দোকান খালি করে বুঝিয়ে দিতে হবে।
ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্তকে একতরফা, বেআইনি ও চুক্তিবিরোধী উল্লেখ করে বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ট্রাস্ট বা জেলা প্রশাসনের একতরফাভাবে চুক্তি বাতিলের কোনো এখতিয়ার নেই। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, যা এখানে মানা হয়নি।
নোটিশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ১২ মার্চ উচ্চ আদালত দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়া পৃথক আরও দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্ছেদ নোটিশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আদালতের এ আদেশ থাকা সত্ত্বেও গত ২৫ মার্চ বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মার্কেটে গিয়ে দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন। পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে দোকানগুলোর সাটারে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যদিও ভেতরে কোটি টাকার পণ্য ছিল। এতে পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার চেষ্টা করলেও সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে তারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এ অবস্থায় হঠাৎ চুক্তি বাতিল ও উচ্ছেদের চেষ্টা অন্যান্য ব্যবসায়ীর মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
তারা অবিলম্বে তালাবদ্ধ দোকান খুলে দেওয়ার ও ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা না দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমদ তাফাদার, জামিল চৌধুরীর পক্ষে ইনামুল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ সানাজ, মো আলী হোসেনের পক্ষে আল আমিন আহমদ, আলী হায়দারের পক্ষে মো আব্দুর রহিম বাদশা, হাফিজ ওয়াসিল আলীর পক্ষে মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক প্রমুখ।