বানিয়াচঙ্গে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ও খেলা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২ শতাধিক

প্রকাশিত September 1, 2017
বানিয়াচঙ্গে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ও খেলা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২ শতাধিক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গ উপজেলার উত্তর সাঙ্গর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দেড় শতাধিক লোক আহত হয়েছে।
উত্তর সাঙ্গর গ্রামে অধিবাসী সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন খন্দকার ও যুবদল নেতা নূরুল হুদার লোকজনের মধ্যে এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষ ঘটে। এতে আহতদের প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৩৯ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ জানায়, মাস খানেক আগে নূরুল হুদা ও জালাল উদ্দিন খন্দকারের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ খানের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনার নিষ্পত্তি করা হয়; কিন্তু নূরুল হুদা সালিশ বৈঠকের রায় অনুযায়ী জরিমানার টাকা না দেয়ায় জালাল উদ্দিন খন্দকারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। নূরুল হুদার পক্ষ থেকেও করা হয় পাল্টা মামলা। এর সুবাদে বুধবার রাত ৩টার দিকে বানিয়াচঙ্গ থানা পুলিশ নূরুল হুদার বাবা সাবেক মেম্বার রুস্মত আলীকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে জালাল উদ্দিন খন্দকারের পক্ষের রওশন আলী রুস্তম আলীকে লাঞ্চিত করে।
এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সহকারী পুলিশ সুপার শৈলেন্দ্র চাকমা জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষে ঘটনাটি ঘটেছে।
এর আগে বিকেলে একই ইউনিয়নের বাগহাতা গ্রামে কাবাডি খেলা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহিলা সহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। আহতদের মধ্যে ২০ জনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে বাগহাতা গ্রামের কয়েকজন যুবকরা কাবাডি খেলছিল। এসময় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গ্রামের জুনু মিয়ার সাথে আহাদ আলী মেম্বারের ছেলে জাকির মিয়ার কথাকাটা কাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।