দিরাই প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আলোচিত প্রান্ত দাস হত্যা মামলার প্রধান আসামি চাঁন মিয়াকে ‘এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক’ আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের বাউসী গ্রামে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
তারা চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, চাঁন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত। তার ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে চুরি-ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। অথচ বাউসী গ্রামে তার নিজের কোনো জমি নেই। ২০১৭ সালের দিকে কামিনী দাস নামে একজনের পুকুরে পাহারাদার হিসেবে কাজ নেওয়ার পর তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন।
বক্তাদের দাবি, এর আগে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে চাঁন মিয়াকে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল।
গত বছরের ২৬ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাউসী গ্রামে প্রান্ত দাস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় চাঁন মিয়া ও তার ছেলে শাকিলসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হলে দীর্ঘ কারাবাস শেষে সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ করা হয়েছে, জামিনে বের হয়ে চাঁন মিয়া পুনরায় কামিনী দাসের জমিতে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা অমান্য করে গভীর রাতে টিনের ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়।
কামিনী দাস অভিযোগ করেন, রাতে তার জমিতে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে চাঁন মিয়া রামদা হাতে তাকে হুমকি দেন। এও বলেন, “একটি খুন করেছি, প্রয়োজনে আরও করবো”। জায়গা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতেও বলেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, চাঁন মিয়া এলাকায় গরু-ছাগল চুরি, নিরীহ মানুষকে মারধর এবং নারীদের উত্ত্যক্ত করার মতো অপকর্মেও জড়িত। এ কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।