নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার চাঞ্চল্যকর রাজনা বেগম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা এলাকা হতে র্যাব-৯ গ্রেফতার করেছে।
গত ৩১ জানুয়ারি উপজেলার বড় আলীপুরে ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূ রাজনা বেগমের (১৯) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই সুফি মিয়া নবীগঞ্জ থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় মামলার প্রধান আসামি রাজনা বেগমের স্বামী জাকারিয়াকে (পিতা সবুজ মিয়া, বড় আলীপুর, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ) ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়।
আসামি জাকারিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক। রাজনা বেগমের সঙ্গে ৪ বছর প্রেমের পর গতবছর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়; কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সে অটোরিকশা কেনার কথা বলে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী ও শ্বশুর পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে ঘটনার দিন আনুমানিক বিকেল ৪টায় প্রথমে স্ত্রীর হাত-পা ওড়না দিয়ে বেঁধে ভয়-ভীতি দেখায় এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়। এরপর শ্বশুরবাড়িতে ফোন দিয়ে টাকা দাবি করে। হুমকি দেয় টাকা না দিলে স্ত্রীকে মেরে ফেলবে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় হাত-পা বাঁধা স্ত্রীর মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে বটিদা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে ঘরের বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়। পরদিন মধ্যরাতের দিকে বাসযোগে রওনা হয় ঢাকায়। সেখানে নিরাপদ আশ্রয় না পেয়ে তার একসময়কার কর্মস্থল মুন্সিগঞ্জের লতব্দী এলাকার গিয়ে ইটভাটায় আত্মগোপন করে। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।-সূত্র সংবাদ বিজ্ঞপ্তি