শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ ও বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন-ইউজিসির পরামর্শের আলোকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে জাপানিজ ভাষা শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর/২৩ আশ্বিন) বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ১১তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড মো মোজাম্মেল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।
সভায় শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। প্রস্তাবিত কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে জাপানে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে জাপানিজ ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাপানিজ ভাষা শেখার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আন্তর্তজাতিক ভাষা শিক্ষার বিভিন্ন কোর্স চালু করা হবে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সংবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবিধিটি অনুমোদনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে। সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অংশগ্রহণ এবং দেশি-বিদেশি কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি