হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে ৬ কৃষক হাওরে কর্মরত অবস্থায় মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৪ জন। এ নিয়ে গত এক মাসে জেলায় বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা ২৫ এ দাঁড়ালো।
বজ্রপাতে বুধবার মারা গেলেন, নবীগঞ্জ উপজেলার বৈলাকপুর গ্রামের হরিচরণ পালের ছেলে নারায়ন পাল ও আমড়াখাই গ্রামের হাবিব উল্লার ছেলে আবু তালিব, মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্রামের রামচরণ সরকারের ছেলে জহরলাল সরকার, লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের জাহেদ মিয়ার ছেলে সফিক মিয়া, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধাইপুর গ্রামের বসন্ত দাসের ছেলে স্বপন দাস ও সিরাজগঞ্জের নওসের মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া।
পুলিশ ও এলাকার লোকজন জানান, সকাল ১১টায় বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি হাওড়ে ধানকাটা অবস্থায় স্বপন দাস মারা যান। প্রায় একই সময়ে মাইচ্ছার বিল হাওরে নিহত হন জয়নাল মিয়া। এসময় আহত হন ৪ জন। তাদেরকে বানিয়াচং উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া হাওরে গুরুতর আহত হন সফিক মিয়া। উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার বৈলাকপুর হাওরে হারান নারায়ন পাল ও আবু তালিব প্রাণ। একই সময়ে মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম হাওরে জহরলাল সরকার মারা যান।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলায় বজ্রপাতে ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মাচতুলী হাওরে ট্রলি দিয়ে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাত ঘটলে ট্রলি চালক আলমগীর হোসেন (২৫) মারা যান। তিনি কাশিপুর গ্রামের যুক্ত মিয়ার ছেলে।
এছাড়া ধর্মপাশা উপজেলার কালনীর হাওরে বজ্রপাতে উজ্জ্বল মিয়া (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। সে উপজেলার দুর্বাকান্দা গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান জানান, হাওর এলাকায় বজ্রপাত এখন একটি আতঙ্কের নাম। তাই হাওর অঞ্চলে তালগাছ রোপণ সহ মানুষের মধ্যে সচেতনতার গড়ে তুলতে হবে।