সিলেটে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন : সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত ২

প্রকাশিত April 30, 2018
সিলেটে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন : সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : কখনো হালকা আবার কখনো মাঝারি বৃষ্টিতে সোমবার সিলেট মহানগরীর জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মঙ্গলবার সারাদিনও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে আবহওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।
রবিবার দিনগত রাত থেকে এই বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর আর থামেনি। এতে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে নগরজীবনে বেশ দুর্ভোগ নেমে আসে। অনেকে বাসাবাড়িতে আটকা পড়েন। যানবাহন সংকটের কারণে ঘর হতে পারেননি কেউ কেউ। যান চলচলেও ব্যাঘাত ঘটে।
সিলেটে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
সকালে দরগাপাশা ইউনিয়নের জামখলা হাওরের সোনাডুবি বিলের পাশে জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকের নাম মোহাম্মদ ইয়াহিয়া (৪২)। তিনি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউয়িনের রায়পুর গ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াছ আলীর ছেলে।
মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ধান কাটার শ্রমিকদের একটি দল নিয়ে কয়েকদিন আগে এই এলাকায় এসেছিলেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এসআই জাকির হোসেন জানান, মরদেহটি নিয়ে যেতে স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জে গত দু দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তাই জেলার হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ধান কাটতে ও শুকাতে পারছেন না। ফলে কাটা ধানে পঁচনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন হাওরের নিচু এলাকাগুলো ডুবে গেছে। এতে কৃষকরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, হবিগঞ্জে খোয়াই নদীতে পানি বেড়েছে ৮ সেন্টিমিটার। তবে বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
এদিকে দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ তেলকুমার হাওরে বজ্রপাতে শামসুল হক (৪০) নামের এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার গাজী আবদুর রহমানের ছেলে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, বজ্রপাতে শামসুল হকের ছাতা ও মাথায় আগুন ধরে যায়। এ অবস্থায় তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।