নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার এলাকার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জিউর আখড়া পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর কারণ কমিটির সাধারণ সভায় হামলাকারী দু’জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না করা। এছাড়াও ভাড়াটিয়ারা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর/২৩ কার্তিক) বিকেলে মহানগরীর জিন্দাবাজারে একটি অভিজাত হোটেলে আহুত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আখড়া পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানেন্দ্র ধর রুমু। তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর সকাল ১১টায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশিষ্টজনদের নিয়ে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সভা চলাকালে জিতেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ও তার পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসী নিয়ে তাতে হামলা চালান। এতে দু’জন আহত হন। হামলাকারীরা মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দলিল ও কাগজপত্র নিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতেও শিবব্রত ভৌমিক চন্দন ও জ্ঞানেন্দ্র ধর রুমুকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ ঘটনায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন বাদি হয়ে সিলেট কোতয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন (নং ৫০৭/২০২৫)। এর পরিপ্রেক্ষিতে জিতেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ও তার ভাইকে গ্রেফতার করা হলেও জিতেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ছেলে রাহুল দেবনাথ ও শান্ত দেবনাথকে রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। তারা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ মন্দিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের হুমকি-ধমকি দিয়েই যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাধাগোবিন্দ জিউর আখড়ার সম্পদ আত্মসাৎ নিয়ে পরিচালনা কমিটির সঙ্গে জড়িতদের নামে দায়েরকৃত মামলায় (কোতয়ালি সিআর মামলা নং ৮৫১/২০২৩) মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
তিনি প্রতিটি অভিযোগের বিস্তারিত জবাব তুলে ধরে জানান, জিতেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথের বাবা যোগেশ চন্দ্র দেবনাথ জাল কাগজ সৃষ্টি করে এই আখড়া পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে স্বত্ব মোকদ্দমা করেছিলেন ২০০১ সালে (নং ২৫৯/২০০১)। এর বিপরীতে তাকে উচ্ছেদের জন্য মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল (নং ৫৫৯/২০০৫)। যোগেশ চন্দ্র দেবনাথের মামলাটি ডিসমিস হলেও আখড়ার মামলায় তাকে উচ্ছেদের ডিক্রি জারি হয়। ডিসমিস আদেশের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে তিনি আপিল করলেও ২০২১ সালে তা ডিসমিস হয়ে যায়। এরপর তার ছেলে জিতেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, তার সন্তান ও স্বজনরা মামলায় হেরে আক্রোশে মিথ্যা অভিযোগে সাজানো মামলার আশ্রয় নিয়েছেন।
যোগেশ চন্দ্র দেবনাথের ভাই চিত্তরঞ্জন দেবনাথের দায়ের করা মামলাও ডিসমিস হয়েছিল। তবে এখনো কয়েকটি মামলা বিচারাধীন। তারা আখড়ার নালিশা ভূমি ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তিনি জানান, আখড়া পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সিলেটের বিভিন্ন মন্দির, সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের নামে অপবাদ দিয়ে আর বিভিন্ন ব্যক্তির আম-মোক্তার হয়ে মিথ্যা অভিযোগে আখড়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জিতেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ও তার ছেলে রাহুল দেবনাথসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য মন্দির পরিচালনা কমিটিকে হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ভাড়াটিয়াদেরও তারা নির্যাতন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করায় রাহুল দেবনাথের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সংবাদ সম্মেলনে সিলেটবাসীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।