নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সদর উপজেলার মাখরকলা-সিদাইলগুল গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে কৃষক ইলিয়াস আলী ও তার পরিবার এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাদের নিত্য হুমকির কারণে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর/১৯ কার্তিক) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস আলীর মেয়ে সাহেবের বাজার হাইস্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিপা আক্তার এ অভিযোগ করেন। এ সময় পরিবারের ১৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে শিপা আক্তার উল্লেখ করেন, প্রায় ৮ বছর পূর্বে জায়গা কিনে বাড়ি করে মাখরকলা-সিদাইলগুলে তারা বসবাস করছেন। সম্প্রতি তাদের বাড়ির রাস্তা জোরপূর্বক দখল করেন একই এলাকার আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা। এ ব্যাপারে স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে বিচার চাওয়ায় গত ৩ অক্টোবর রাত ১২টায় তাদের উপর হামলা চালান ও ঘরে লুটপাট করেন এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে সুজন ও রিপন এবং আব্দুল মিয়ার ছেলে হেলাল ও জামালসহ কয়েকজন।
হামলায় ইলিয়াস আলীর পরিবারের নারী, শিশু ও প্রবাসীসহ ১৩ জন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।
পরদিন ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে এসএমপির বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন ইলিয়াস আলীর ছেলে লায়েক মিয়া, (মামলা নং-২, তাং-০৪.১০.২০২৫)। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা বাদি পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ প্রাণে মারার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ৯ অক্টোরব সিলেট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ইয়ারুন বিবি, (মামলা নং-২৮৪/২০২৫); কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। অথচ অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
কৃষক ইলিয়াস আলী জানান, কালাগুল এলাকার বাসিন্দা সুজন, জামাল, হেলাল ও খালিক আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ছাত্র আন্দোলন চলাকালীনও তারা এর বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সরকার পতনের পরও তাদের দৌরাত্ম বন্ধ হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, সঠিক বিচার ও অসহায় পরিবারটিকে বাড়িতে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানানো হয়।