মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ঘোষণা : এ মাসেই ৫০ হাজার কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

প্রকাশিত January 22, 2017
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ঘোষণা : এ মাসেই ৫০ হাজার কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

তোফায়েল আহমেদ, মালয়েশিয়া : বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।  শুক্রবার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ ঘোষণা দিয়েছেন।
ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে যোগদান শেষে শ্রমবাজার ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি ছাড়াও মালয়েশিয়ায় বসবাসকারি অবৈধ কর্মীদের জন্য বিশেষ পাস ইস্যুরও উদ্যোগ নিচ্ছে এ দেশের সরকার। ফলে অবৈধ কর্মীদের পুলিশের ভয়ে আর বনে-জঙ্গলে পালিয়ে থাকতে হবে না।
শাহরিয়ার আলম বলেন, চলতি সপ্তাহ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরই মধ্যে ছয় হাজার শ্রমিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়ন করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এ মাসেই আরো ৫০ হাজার শ্রমিকের কাগজপত্র সত্যায়ন করা হবে।
বিপুল সংখ্যক কর্মী এ বছরই মালয়েশিয়া আসবে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ থেকে যত জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে, চলতি বছরে শুধু মালয়েশিয়ায়ই তার চেয়ে বেশি কর্মী পাঠানো যাবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো শহীদুল ইসলাম, ডেপুটি হাই কমিশনার ফয়সাল আহমেদ, লেবার কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম, মিনিস্টার (রাজনৈতিক) ওয়াহিদা আহমেদ, রইস হাসান সরোয়ার প্রমুখ।
এর আগে ১২ই জানুয়ারি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার সব প্রস্তুতির কথা জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সব ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটি। তাই দ্রুত কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়।
মালয়েশিয়া সরকারের এই চিঠির জবাবে বাংলাদেশ সরকারের সব প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ১৬ই জানুয়ারি মালয়েশিয়া সরকারের কাছে চিঠি দেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। দুই দেশের সরকারের মতৈক্যের ফল হিসেবেই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর দরজা খুলে গেল।
২০১৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ রেখে উভয় দেশের মধ্যে ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি সই হয়েছিল; কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই মালয়েশিয়া সরকার বিদেশী কর্মী নেয়া আবারও বন্ধ ঘোষণা করে। কয়েক মাস আগে বিদেশী কর্মী না নেয়ার ঘোষণাটি প্রত্যাহারের পর ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তির আলোকে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি আবারও সামনে আসে। মালয়েশিয়ায় মোট পাঁচটি খাতে বিপুলসংখ্যক কর্মী নেয়ার ঘোষণা রয়েছে।
শতভাগ অনলাইনের সহায়তায় কর্মীর নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবে মালয়েশিয়া সরকার। বাংলাদেশের অনুকূলে যে চাহিদাপত্র ইস্যু হয়েছে তাতে তিন বছর কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা টানা ১০ বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে। কর্মীর দৈনিক কর্মঘণ্টা হবে আট ঘণ্টা, চাইলে ওভারটাইম করা যাবে। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া সরকারের শ্রম আইন শতভাগ প্রযোজ্য হবে। কর্মীর মাসিক বেতন চুত্তিপত্রে যা উল্লেখ থাকবে তা-ই দেয়া হবে। এর কম হলে কম্পিউটার গ্রহণ করবে না। বেতন-ভাতার টাকা কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং  সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সরকারের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইনে বার্তা চলে যাবে। অনলাইন প্রক্রিয়ার কারণে একটি ধাপের সঙ্গে অন্যটি ম্যাচ না করলে ‘সিস্টেম’ কাজ করবে না বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো ২০০৮ সালের পর থেকে বন্ধ ছিল।