মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে নিহত সালেখের মরদহ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন

প্রকাশিত March 9, 2026
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে নিহত সালেখের মরদহ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন

বিশেষ প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত বাংলাদেশী নাগরিক আহমদ আলী ওরফে সালেখ উদ্দিনের মরদেহ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা দাসপাড়া গ্রামের মৃত সবর আলীর ৫৫ বছর বয়সী ছেলে আহমদ আলী প্রাণ হারান।
পাসপোর্ট অনুযায়ী তার নাম আহমদ আলী হলেও নিজের এলাকায় তিনি সালেখ উদ্দিন নামে পরিচিত। জীবিকার তাগিদে তাকে প্রায় ২৭ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমাতে হয়।
সোমবার (৯ মার্চ/২৪ ফাল্গুন) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে আহমদ আলীর কফিনবন্দি মরদেহ প্রথমে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তা নিয়ে আসা হয় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এখানে সকাল ১১টায় মরদেহ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের বড় ছেলে আব্দুল হক ও ভাই।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহমদ আলীর মরদেহ গ্রহণের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নিজেই মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকায় নিয়ে আসেন।
মরদেহ আহমদ আলীর বাড়িতে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিথর দেহটি বাড়ির উঠানে নামাতেই স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠে।
পরে জানাজায় অংশ নেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার সারোয়ার কামাল, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) আজমল হোসেন, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী, জেলা বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রতিবেশী ও স্বজনরা।
পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে তাদের সান্ত্বনা দিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ঢাকায় মরদেহ গ্রহণ ও সিলেট হয়ে মৌলভীবাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আহমদ আলীর বড় ছেলের কর্মসংস্থানের এবং স্ত্রীকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
এছাড়া দাফন-কাফনের জন্য তার পরিবারকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৫ হাজার টাকা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। পরে জেলা প্রশাসন থেকে আরো একলাখ টাকা প্রদান করা হবে।