নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করার এক সপ্তাহ পার হয়নি। এর মধ্যেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এক ছাত্রী লাঞ্ছিত হয়েছে। তাকে অপহরণেরও চেষ্টা করা হয়েছিল; কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসায় তিনি রক্ষা পান।
হবিগঞ্জের অধিবাসী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র কাওসার আহমদ ও তার বোন একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ছাত্রী ফাহমিদা আক্তারকে সাথে নিয়ে শুক্রবার সকালে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসেন। এরপর দুজন মিলে পূর্ব সম্পর্কের সূত্র ধরে ১ নম্বর ছাত্রী হল থেকে সাকি চৌধুরী নামের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীকে বের করে এনে তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাবার প্রস্তাব দেন; কিন্তু সাকি চৌধুরী এতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে ভাইবোন মিলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে রিক্সায় তুলে অপহরণের চেষ্টা করেন।
এ সময় সাকি চৌধুরী চিৎকার দিলে দুই জন শিক্ষক ছুটে আসেন। আসেন সাধারণ শিক্ষাথীরাও। তারা সাকি চৌধুরীকে উদ্ধার এবং কাওসার আহমদ ও তার বোনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীরা কাওসার আহমদকে উত্তম-মধ্যমও দেন।
কাওসার আহমদ দাবি করেছেন, একই জেলার অধিবাসী সাকি চৌধুরী তার পূর্ব পরিচিত। তাদের মধ্যে একটি পারিবারিক ঝামেলা ছিল। অন্যদিকে সাকি চৌধুরী তার সাথে কোন ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।
কাওসার আহমদ স্বীকার করেছেন, তিনি সাকি চৌধুরীর মাথায় আঘাত করেছেন।
শাবিপ্রবির ১ নম্বর ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড আমেনা পারভীন নিশ্চিত করেছেন, রিক্সায় তুলেই কাওসার আহমদ সাকি চৌধুরীকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।
শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড রাশেদ তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।