একাত্তরের এদিনে কৃষ্ণপুরে পাকিস্তানিরা হত্যা করে ১২৭ জন বাঙালিকে

প্রকাশিত September 18, 2016
একাত্তরের এদিনে কৃষ্ণপুরে পাকিস্তানিরা হত্যা করে ১২৭ জন বাঙালিকে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলকালে ১৮ই সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ১২৭ জন বাঙালিকে হত্যা করে; কিন্তু কোন শহীদ তালিকা এখনো তৈরি হয়নি। এছাড়া দিনটি প্রতিবছর নীরবে নিভৃতে পার হয়ে যায়। বধ্যভূমি সংরক্ষণের কাজও ২ বছরে শেষ হয়নি।
লাখাই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর। হবিগঞ্জ ও ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার মধ্যবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম। যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে বর্ষায় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে পায়ে হাঁটা। গ্রামবাসীর শতকরা ৯৫ ভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। বেশিরভাগ মানুষ লেখাপড়া জানেন।
১৮ই সেপ্টেম্বর ভোরে এলাকার রাজাকারদের সহযোগিতায় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালায় কৃষ্ণপুরে। এ সময় গ্রামের বহু নারী-পুরুষ একটি পুকুরের পানিতে ডুব দিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হলেও জল্লাদরা এক লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে ১২৭ জনকে। তবে এর মধ্যে অনেকই ছিলেন ছিলেন আশ্রয়গ্রহণকারী। কাউকে কাউকে হাওর থেকে খান সেনা ও রাজাকাররা ধরে এনে লাইন দাঁড় করায়। কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে যান।
এই শহীদদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে ৪৫ জনের। শহীদ পরিবারগুলো নিজস্ব উদ্যোগে কৃষ্ণপুর কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিজস্ব উদ্যাগে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছেন। অন্যদিকে প্রায় ২ বছর ধরে সরকারি উদ্যোগে চলছে বধ্যভূমি সংরক্ষণের কাজ; কিন্তু তা আর শেষ হচ্ছেনা। এ অবস্থায় শহীদ পরিবারগুলোর দাবি, অবিলম্বে এ নির্মাণ কাজ শেষ করা হোক। দিনটি সরকারি উদ্যোগে পালন করার জন্যেও তারা দাবি জানিয়েছেন।