নিজস্ব প্রতিবেদক : র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় পুত্রবধূর পর পুত্রবধূর প্রেমিকসহ ৩ আসামিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে।
র্যাব-৯ জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্যসমত এলাকার ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর (৬০) এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে দুবাই প্রবাসী। মেয়েদেরও বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি
ছেলের বউ তামান্না আক্তারকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতেন।
ছেলের বিয়ের সময় বউকে ৫ ভরি স্বর্ণলংকার দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তা বিয়ের পর শাশুড়ির হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ নিয়ে বউ-শাশুড়ির মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হতো।
এ অবস্থায় টিকটক আইডির মাধ্যমে শিপন মিয়া নামের একজনের সাথে তামান্না আক্তারের পরিচয় হয় এবং দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর সুবাদে প্রেমিক গোপনে এ বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো।
এক পর্যায়ে দুজন মিলে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর হেফাজতে থাকা স্বর্ণলংকার ও টাকা-পয়সা চুরির চক্রান্ত করে। এর ধাবাবাহিকতায় গত ১৫ মার্চ রাতে প্রেমিকার সহায়তায় শিপন মিয়া একাধিক সহযোগীসহ ঘরে ঢুকে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর মুখ স্কচটেপ দ্বারা আটকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর স্বর্ণলংকার ও টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর ভাই বাদি হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ ও র্যাব-১১, সদর কোম্পানি, নারায়নগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল বুধবার (২৩ এপ্রিল/১০ বৈশাখ) রাত সোয়া ১২টার দিকে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার ডালিপাড়া, আমতলা ও প্রেম রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি শিপন মিয়া ওরফে সেবুল মিয়া (২৩, পিতা সাহেদ মিয়া, রাধানগর, ছাতক, সুনামগঞ্জ) এবং তদন্তে প্রাপ্ত ২ আসামি জোবায়ের হোসেন (২৩, পিতা নূরুল আমিন, মির্জাপুর, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ) ও মো আফজাল হোসেনকে (২৫, পিতা মো শামসু উদ্দিন, রাধানগর, ছাতক, সুনামগঞ্জ) গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ মার্চ মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি পুত্রবধূ তামান্না আক্তারকে র্যাব-৯ গ্রেফতার করে।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।