মৌলভীবাজারে হবু স্ত্রীর সাথে প্রতারণা || র‌্যাবের অভিযানে হবু বর গ্রেফতার

প্রকাশিত April 13, 2026
মৌলভীবাজারে হবু স্ত্রীর সাথে প্রতারণা || র‌্যাবের অভিযানে হবু বর গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব মৌলভীবাজারে হবু স্ত্রীর সাথে প্রতারণার অভিযোগে পর্ণোগ্রাফি মামলায় হবু স্বামীকে গ্রেফতার করেছে।
র‌্যাব-৯ জানায়, জেলার সদর উপজেলার রায়শ্রী এলাকার এক নারী একটি বেসরকারি ব্যাংকের ‘এসিস্ট্যান্ট রিলেশনশিপ অফিসার’। তার সাথে পর্তুগাল প্রবাসী উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাস (৩৫) নামের একজনের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার সুবাদে এক পর্যায়ে সে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এই নারী তখন উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাসকে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।
পরবর্তী সময়ে দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ১৪ জুন উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাসের মা ও বোন পাত্রীর বাড়িতে গিয়ে সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পাত্রীর আশীর্বাদ সম্পন্ন করেন। অতঃপর পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মধ্যে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। এই সুযোগে পাত্র কৌশলে পাত্রীর খোলামেলা কিছু ছবি তুলে নেয়।
সম্পর্কের এক পর্যায়ে হবু স্বামী হবু স্ত্রীর কাছে ‘রেসিডেনসি কার্ডের’ জন্যে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। সেই সাথে হুমকি দেয়, টাকা না দিলে সে অন্যত্র বিয়ে করবে এবং ইতোপূর্বে কৌশলে তোলা হবু স্ত্রীর নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করবে ও আত্মীয়-স্বজনদের নিকট পাঠাবে। তাতেও ফল না হওয়ায় উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাস দেশে এসে গত ১২ মার্চ অন্যত্র বিয়ে করে ফেলে। এছাড়া কিছু ছবি তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করে।
এ ঘটনায় আশীর্বাদ সম্পন্ন পাত্রীর মা বাদি হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি পর্ণোগ্রাফি মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারের একটি আভিযানিক দল রবিবার (১২ এপ্রিল) আনুমানিক রাত সোয়া ৮টায় মৌলভীবাজার পৌরসভার উত্তর কলিমাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাসকে (৩৫, পিতা উদ্ধব চন্দ্র বিশ্বাস, উত্তর কলিমাবাদ, মৌলভীবাজার) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।