নিজস্ব প্রতিবেদক : র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব হবিগঞ্জে মাছ চুরির বিরোধের জের ধরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আউয়াল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে।
র্যাব-৯, সিলেট জানায়, জেলার লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক এলাকার সফিকুর রহমান একটি জলমহাল ইজারা নিয়ে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করতেন। এক রাতে তোফাজ্জল নামে এক ব্যক্তি ও তার কয়েক সঙ্গী মিলে সেখানে মাছ চুরি করতে গেলে তিনি তাদেরকে দেখে ফেলেন।
শফিকুর রহমান তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে তোফাজ্জলকে আটক করে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে লোকজন তাকে মারপিট করে থানায় দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ছাড়া পেয়ে কিছুদূর গিয়ে তোফাজ্জল অচিরেই সফিকুর রহমানকে খুন করবে বলে হুমকি দেয়।
এর জের ধরে গত ১ এপ্রিল আনুমানিক বিকেল ৫টায় জব্বর নগর নামক স্থানে চায়ের দোকানে সফিকুর রহমান চা খেতে গেলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা কিছু লোক দা, লোহার রোড, কাঠের রুইল ও জিআই পাইপ নিয়ে চায়ের দোকানে ঢুকে তাকে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে যায়।
আশেপাশের মানুষ সফিকুর রহমানকে উদ্ধার করে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তী সময়ে তার অবস্থা আশংকাজনক হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়; কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদি হয়ে লাখাই থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প ও র্যাব-১০, ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার চকবাজার থানাধীন খাজে দেওয়ান প্রথম লেনে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ১ নম্বর আসামি আউয়াল মিয়াকে (৪২, পিতা মিয়া হোসেন, মুড়িয়াউক, লাখাই, হবিগঞ্জ) গ্রেফতার করে।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে লাখাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।