নিজস্ব প্রতিবেদক : র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় কিশোরী সানজিদা আক্তার হত্যা মামলার এক আসামি গ্রেফতার হয়েছে।
র্যাব-৯ জানায়, উপজেলার বাঘজোড় পূর্বহাটির মো হারুন মিয়া ও মো আব্দুস সালাম এলাকার একটি মসজিদ কমিটির সদস্য। কিছুদিন পূর্বে এই মসজিদের বারান্দা নির্মাণ করার দায়িত্ব আব্দুস সালামকে দেওয়া হয়। নির্মাণ কাজ অর্ধেক সম্পন্ন করার পর এ কাজে কত টাকা ব্যয় হয়েছে তা জানার জন্য মসজিদ কমিটি মসজিদের ভিতরে সভায় বসে। এতে হারুন মিয়া ব্যয়ের পরিমাণ জানতে চাইলে আব্দুস সালাম হিসাব না দিয়ে উল্টো হারুন মিয়াকে হত্যার হুমকি দিয়ে সভা ছেড়ে চলে যান।
এর জের ধরে গত ১৭ মার্চ আনুমানিক রাত ১০টায় সময় আব্দুস সালাম পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হারুন মিয়ার বাড়িতে চড়াও হয়ে গালিগালাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে হারুন মিয়া ঘর হতে বের হয়ে প্রতিবাদ জানালে তার উপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।
এ সময় হারুন মিয়ার ভাতিজি সানজিদা আক্তার (১৩) চাচাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও গুরুতর আহত করে।
আশেপাশেল লোকজন আহত চাচা-ভাতিজিকে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে সানজিদা আক্তারকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ মার্চ সানজিদা আক্তার মৃত্যুবরণ করে।
এ ঘটনায় হারুন মিয়া বাদি হয়ে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার (১০ এপ্রিল/২৭ চৈত্র) রাত সোয়া ১টার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নের গাভীগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় ৭ নম্বর পলাতক আসামি মো কুদ্দুছ মিয়াকে (৫৫, পিতা মৃত মুনছুব উল্লাহ, বাঘজোড়, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।