প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সম্প্রচারসেবা : প্রযুক্তি নয় আগে প্রবেশগম্যতা

প্রকাশিত May 7, 2026
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সম্প্রচারসেবা : প্রযুক্তি নয় আগে প্রবেশগম্যতা

এ এইচ এম বজলুর রহমান : বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য তথ্য, সংবাদ, শিক্ষা, দুর্যোগ সতর্কতা ও সামাজিক সংযোগ নিশ্চিত করা কোনো দয়া, অনুগ্রহ বা অতিরিক্ত সুবিধার বিষয় নয়। এটি নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার এবং উন্নয়নের মৌলিক শর্ত। একজন নাগরিক যদি সংবাদ বুঝতে না পারেন, জরুরি সতর্কতা শুনতে না পান, সরকারি ঘোষণা জানতে না পারেন, শিক্ষা বা স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছায় না, তাহলে তিনি শুধু তথ্য থেকে বঞ্চিত হন না; তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অংশগ্রহণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার থেকেও পিছিয়ে পড়েন।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকারবিষয়ক সনদ, সিআরপিডি (CRPD), অনুসমর্থন করেছে। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য তথ্য ও যোগাযোগে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সংস্থা, প্রযুক্তি খাত এবং কমিউনিটি মিডিয়ার যৌথ দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও যোগাযোগব্যবস্থা এখনো প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য পুরোপুরি প্রবেশগম্য নয়।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, বাক প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী এবং মুদ্রণ প্রতিবন্ধী মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির প্রয়োজন এক নয়। কেউ অডিওর ওপর নির্ভর করেন, কেউ সাবটাইটেল চান, কেউ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ছাড়া তথ্য বুঝতে পারেন না, কেউ সহজ ভাষার ব্যাখ্যা চান, আবার কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারলেও জটিল অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন না। তাই ‘একটি মাধ্যম সবার জন্য যথেষ্ট’এই ধারণা ভুল।
বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সব মানুষ ডিজিটাল তথ্যসেবার আওতায় এসেছে। গ্রামীণ, চর, হাওর, উপকূল, পাহাড়ি এলাকা এবং নিম্ন আয়ের পরিবারে এখনো রেডিও, মোবাইল ফোন, স্থানীয় কেবল, মসজিদ-মাইক, কমিউনিটি রেডিও, স্থানীয় সংগঠন এবং মুখে-মুখে তথ্যপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, প্রবীণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র পরিবারে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী শিশু এবং মুদ্রণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ডিজিটাল ব্যবস্থার বাইরে পড়ে যেতে পারেন।
তাই বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সম্প্রচার ও যোগাযোগসেবার ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত ‘ডিজিটাল-প্রথম’নয়, বরং ‘প্রবেশগম্যতা-প্রথম’। প্রযুক্তি অবশ্যই বদলাবে, মাধ্যমও বদলাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তনের ফলে কে যুক্ত হবে এবং কে বাদ পড়ে যাবে? যদি কোনো সম্প্রচারসেবা অনলাইনে চলে যায়, কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শ্রোতার কাছে স্মার্টফোন না থাকে, ইন্টারনেট খরচ বহন করার সামর্থ্য না থাকে, অথবা অ্যাপ ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ না থাকে, তাহলে সেটি অগ্রগতি নয়; সেটি নতুন ধরনের বঞ্চনা।
বাংলাদেশের কমিউনিটি রেডিও ও স্থানীয় গণমাধ্যম এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কমিউনিটি রেডিও শুধু সংবাদ প্রচার করে না; এটি স্থানীয় ভাষা, স্থানীয় সমস্যা, স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সমাধানকে সামনে আনে। কৃষক, জেলে, নারী, যুব, প্রবীণ, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের কাছে কমিউনিটি রেডিও অনেক সময় সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম। এই পরিসরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কণ্ঠ যুক্ত করা গেলে তা শুধু তথ্যপ্রাপ্তি নয়, সামাজিক অংশগ্রহণও বাড়াবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সম্প্রচারসেবা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি ভুল ধারণা ভাঙা জরুরি। অনেক সময় মনে করা হয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শুধু সেবার গ্রহীতা। বাস্তবে তাঁরা হতে পারেন উপস্থাপক, সংবাদ পাঠক, স্ক্রিপ্ট লেখক, অডিও কনটেন্ট নির্মাতা, অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী, পরামর্শক এবং সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য। তাঁদের ছাড়া তাঁদের জন্য যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করা মানে আবারও ওপর থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া। অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগাযোগের প্রথম শর্ত হলো, প্রতিবন্ধী মানুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে রাখা।
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সম্প্রচার মডেল গড়ে তুলতে হলে কয়েকটি করণীয় সামনে আনতে হবে।
প্রথমত, একটি জাতীয় প্রবেশগম্য যোগাযোগ নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। এখানে পাবলিক ব্রডকাস্টার, বেসরকারি টেলিভিশন, রেডিও, কমিউনিটি রেডিও, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, মোবাইল অপারেটর, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সরকারি তথ্যসেবা কীভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য হবে, তার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। শুধু নীতিমালা করলেই হবে না; বাস্তবায়নের সময়সীমা, বাজেট, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং মনিটরিং ব্যবস্থা থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অডিও-ভিত্তিক সেবা শক্তিশালী করতে হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও মুদ্রণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সংবাদ, সরকারি ঘোষণা, স্বাস্থ্য তথ্য, কৃষি তথ্য, শিক্ষা উপকরণ, আইনগত অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, কর্মসংস্থান তথ্য এবং দুর্যোগ সতর্কতা অডিও ফরম্যাটে নিয়মিত প্রচার করা জরুরি। রেডিও, কমিউনিটি রেডিও, পডকাস্ট, ফোন-ভিত্তিক অডিও সার্ভিস এবং অফলাইন অডিও কনটেন্ট একসঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তৃতীয়ত, শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য টেলিভিশন ও অনলাইন ভিডিওতে বাংলা সাবটাইটেল এবং সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় দুর্যোগ, নির্বাচন, স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা, সরকারি ঘোষণা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ও সাবটাইটেল থাকা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। শুধু আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে কোণায় ছোট আকারে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দেখালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেটি দৃশ্যমান, মানসম্মত এবং বোধগম্য হতে হবে।
চতুর্থত, সহজ ভাষার ব্যবহার বাড়াতে হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি, স্বাস্থ্য নির্দেশনা, জলবায়ু সতর্কতা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং নাগরিক অধিকারবিষয়ক তথ্য অনেক সময় এত জটিল ভাষায় লেখা হয় যে সাধারণ মানুষও বুঝতে পারেন না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ মানুষ, স্বল্পশিক্ষিত জনগোষ্ঠী এবং গ্রামীণ নারীর জন্য সহজ বাংলা, স্থানীয় উপভাষা এবং উদাহরণভিত্তিক ব্যাখ্যা জরুরি। তথ্য পাওয়া এক জিনিস, তথ্য বুঝে ব্যবহার করতে পারা আরেক জিনিস।
পঞ্চমত, ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সহায়তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। যদি কোনো রেডিও বা তথ্যসেবা মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে যায়, তাহলে ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কীভাবে অ্যাপ চালু করতে হয়, কীভাবে স্ক্রিন রিডার ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করা যায়, কীভাবে সাবটাইটেল চালু করতে হয়, কীভাবে কম ডেটায় অডিও শোনা যায়, এসব বিষয়ে ব্যবহারিক সহায়তা দরকার। শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই অন্তর্ভুক্তি হয় না।
ষষ্ঠত, কম খরচের ডিভাইস ও ডেটা প্যাকেজ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর বড় অংশ অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিতে থাকে। তাঁদের জন্য প্রবেশগম্য স্মার্টফোন, রেডিও সেট, হেডফোন, স্ক্রিন রিডার-সমর্থিত ডিভাইস, ব্রেইল ডিসপ্লে বা অডিও প্লেয়ার সহজলভ্য না হলে প্রবেশগম্য যোগাযোগ কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়। মোবাইল অপারেটর, সরকার এবং উন্নয়ন অংশীদাররা যৌথভাবে বিশেষ তথ্য-প্যাকেজ বা শূন্য-রেটেড জনস্বার্থ অডিও সেবা চালু করতে পারে।
সপ্তমত, দুর্যোগ যোগাযোগে প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, বজ্রপাত ও জলবায়ু ঝুঁকির দেশ। দুর্যোগ সতর্কতা যদি শুধু লিখিত এসএমএসে যায়, শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হয়তো জানতে পারবেন; কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য অডিও দরকার। আবার শুধু মাইকিং করলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বঞ্চিত হবেন। তাই দুর্যোগ যোগাযোগ হতে হবে বহু-মাধ্যমভিত্তিক: অডিও, টেক্সট, ভিজ্যুয়াল অ্যালার্ট, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং কমিউনিটি রেডিও মিলিয়ে।
অষ্টমত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনকে অংশীদার করতে হবে। নীতিমালা, অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, প্রযুক্তি নির্বাচন, কনটেন্ট মূল্যায়ন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে তাঁদের সরাসরি যুক্ত করতে হবে। ‘তাঁদের জন্য’নয়, ‘তাঁদের সঙ্গে’কাজ করতে হবে। এই নীতিই অন্তর্ভুক্তির মূল ভিত্তি।
নবমত, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণ দরকার। অনেক সময় গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করুণা, অসহায়ত্ব বা ব্যতিক্রমী সাফল্যের ফ্রেমে দেখানো হয়। এটি মানবিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে মর্যাদাহানিকর। প্রতিবন্ধিতা কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং সমাজ, অবকাঠামো ও নীতির বাধাগুলোই মানুষকে বঞ্চিত করে। সাংবাদিক, প্রযোজক, সম্পাদক ও উপস্থাপকদের প্রতিবন্ধিতা-সংবেদনশীল ভাষা, অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রবেশগম্য কনটেন্ট নির্মাণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।
দশমত, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলা টেক্সট-টু-স্পিচ, স্পিচ-টু-টেক্সট, স্বয়ংক্রিয় সাবটাইটেল, অডিও বর্ণনা, সহজ ভাষায় রূপান্তর এবং স্থানীয় ভাষাভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে প্রযুক্তির সুযোগ আছে। কিন্তু সতর্কতা হলো, প্রযুক্তি যেন অসমতা বাড়িয়ে না দেয়। বাংলা ভাষা, উপভাষা, প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় না নিলে প্রযুক্তি কার্যকর হবে না।
একাদশত, একটি জাতীয় প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তিমূলক মিডিয়া তহবিল গঠন করা যেতে পারে। এই তহবিল থেকে কমিউনিটি রেডিও, স্থানীয় গণমাধ্যম, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশগম্য কনটেন্ট তৈরির উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। শুধু প্রকল্পভিত্তিক ক্ষণস্থায়ী উদ্যোগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থায়ন দরকার।
দ্বাদশত, নিয়মিত মূল্যায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কতটি অনুষ্ঠান প্রবেশগম্য হলো, কতজন প্রতিবন্ধী শ্রোতা বা দর্শক উপকৃত হলেন, তাঁদের মতামত কী, কোথায় সমস্যা রয়ে গেছে, এসব বিষয় নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। নীতির সাফল্য কাগজে নয়, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় মাপতে হবে।
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সম্প্রচারসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে গেলে আমাদের একটি মৌলিক প্রশ্নে ফিরে যেতে হবে: আমরা কি প্রযুক্তিকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই, নাকি মানুষকে প্রযুক্তির পরীক্ষাগারে ঠেলে দিতে চাই? উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন তা সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনে ব্যবহারযোগ্য হয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য যোগাযোগসেবা কোনো বিলাসিতা নয়। এটি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ প্রস্তুতি, নাগরিক অধিকার, সংস্কৃতি এবং সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন সংবাদ শুনতে পারেন, একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন জরুরি ঘোষণা বুঝতে পারেন, একজন মুদ্রণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন আইন ও সরকারি তথ্য অডিওতে পেতে পারেন, একজন গ্রামীণ প্রতিবন্ধী নারী যেন নিজের ভাষায় নিজের অধিকার জানতে পারেন, এটাই অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগাযোগের আসল পরীক্ষা।
বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তর দরকার, কিন্তু তা রেডিও, কমিউনিটি রেডিও, মোবাইল অডিও, অফলাইন কনটেন্ট, স্থানীয় ভাষা ও মানবিক সহায়তাকে বাদ দিয়ে নয়। শুধু অ্যাপ-নির্ভর বা অনলাইন-নির্ভর মডেল বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং দরকার বহুমাধ্যমভিত্তিক, স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক এবং অধিকারভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা।
সুতরাং, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সম্প্রচার ও যোগাযোগসেবার ভবিষ্যৎ হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রবেশগম্য, সাশ্রয়ী, স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক এবং টেকসই। প্রযুক্তি হবে মাধ্যম; মানুষ হবে কেন্দ্র। আর এই নীতিই হতে পারে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তিমূলক গণযোগাযোগের পরবর্তী পথরেখা।

এ এইচ এম. বজলুর রহমান || ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, তথ্যের অখণ্ডতা ও ডিজিটাল গণতন্ত্রবিষয়ক নীতি-পরামর্শক, বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স-এএমআর (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর