হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা : পৌষের কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশা সিক্ত প্রকৃতির রুক্ষতাকে জয় করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হাওরগুলোতে এখন কৃষকরা বোরো আবাদে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাকডাকা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চারা তুলছেন-রোপণ করছেন আর আশায় বুক বাঁধছেন মৌসুমে সোনার ফসল ঘরে তোলার। তাই বৈরী আবহাওয়া এই লড়াকু মানুষদের কাছে হার মেনেছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর/১৬ পৌষ) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যেও কৃষকরা কাদা-জলে নেমে জমি তৈরি করছেন। কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন, কেউবা সেই চারা আঁটি বেঁধে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন চষা জমিতে। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের শব্দ চারদিকে; কিন্তু চিরপরিচিত হালের বলদ দিয়ে জমি চাষ আর দেখা যায়না। প্রযুক্তির বিকাশে ওসব হারিয়ে গেছে।
শান্তিপুর গ্রামের কৃষক মো দুলাল মিয়া, আইনুল হক ও হারিছ মিয়া জানান, ”শীত খুব বেশি। হাত-পা জমে যায়; কিন্তু ঘরে বসে থাকলে তো আর পেট চলবে না। হাওর এলাকার একমাত্র ফসল এই বোরো ধান। সঠিক সময়ে চারা রোপণ করতে না পারলে ফলন ভালো হবে না।”
কান্দখলা গ্রামের রাখাল আর সুখলাইন গ্রামের বিপ্লব চন্দ্র দাসের মুখেও একই কথা শোনা গেলো।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মুসলিম পাড়ার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব রফিক মিয়া ও ব্যবসায়ী আব্দুল কালাম পণ্ডিত জানান, শৈত্যপ্রবাহ কৃষকদের দমিয়ে রাখতে পারছেনা।
স্থানীয় সাংবাদিক দিলুয়ার হোসেন, তাপস চন্দ্র দাস ও হাফিজুর রহমান জানান, এবার এলাকায় অস্বাভাবিক শীত পড়েছে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানালেন, কৃষক আর অসহায় মানুষকে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় তারা ইতোমধ্যে কিছু কম্বল বিতরণ করেছেন-আরও বিতরণ করা হবে।”
এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।