তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ উদঘাটন করলো নারীর হত্যারহস্য

প্রকাশিত October 19, 2025
তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ উদঘাটন করলো নারীর হত্যারহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেটে এক নারীর হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে। গ্রেফতার করেছে খুনি স্বামীকে। অন্য আসামি ধরতেও তৎপরতা চালাচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ-এসএমপির মিডিয়া সেল জানায়.
গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মহানগরীর লাক্কাতুরা চা বাগানের ভাইগণ নামক টিলার নির্জন ঝোঁপ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। মরদেহটিতে আংশিক পচনধরা ছিল। প্রাথমিকভাবে তার বয়স ২৫ বছর অনুমান করা হয়। পরনে ছিল নতুন লাল জমিনের ছাপা শাড়ি, হালকা গোলাপি রঙের বোরকা আর গলায় ছিলো হলুদ রঙের ওড়না পেঁচানো। মরদেহের পাশেই পাওয়া যায় একটি লেডিস হ্যান্ডব্যাগ, যার ভিতরে ছিল কয়েকটি জামাকাপড়। এছাড়া ব্যাগের পকেটে একটি ছোট মেমোরি কার্ডও পাওয়া যায়।
পিবিআই ও সিআইডি প্রথসে আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে; কিন্তু আঙ্গুলে পচন ধরায় তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে মেমোরি কার্ডে থাকা মোবাইল ফোনের কথোপকথনের অডিও তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে পুলিশ নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
মিডিয়া সেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নারী সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার উপজেলার মওলারপাড় গ্রামের মৃত মাহতাব মিয়ার মেয়ে রাবেয়া বেগম। তার স্বামী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর গ্রামের ওমান ফেরত আব্দুল আজিজের ছেলে ফারুক আহমেদ। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতির সুবাদে গত ১৭ অক্টোবর বিমানবন্দর থানার একটি আভিযানিক দল রঙ্গারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিকভাবে ফারুক আহমদ হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করলে স্বীকার করে নেয়।
সে জানায়, রাবেয়া বেগমের পূর্বের বিয়ে গোপন করা ও তার সাথে বিয়ের পর অন্য পুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে গত ১৩ অক্টোবর স্ত্রীকে নিয়ে হযরত শাহজালাল (র) মাজার জিয়ারতের কথা বলে সিলেটে আসে। জিয়ারত শেষে বেড়ানোর কথা বলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উত্তর-পূর্ব দিকের নির্জন ভাইগণ টিলায় নিয়ে যায়। সেখানে বিকেল ৪টার দিকে তার ফুফাতো ভাই আলামিনের সহায়তায় রাবেয়া বেগমকে গলা টিপে হত্যা করে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় ফারুক আহমদ ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাবেয়া বেগমের চাচা রিপন মিয়া অভিযোগ দায়ের করলে এয়ারপোর্ট থানার মামলায় (নং-১৭ তারিখ-১৭/১০/২৫খ্রিঃ ধারা ৩০২/৩৪ দ বি রুজু হয়।১৮/১০/২০২৫ খ্রি) আসামি ফারুক আহমদ আদালতে উপস্থাপন করলে সে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের সম্মুখে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।