জকিগঞ্জের নোমান হত্যামামলার ‘বাদি ও সাক্ষী খুনিদের স্বজন’

প্রকাশিত October 10, 2025
জকিগঞ্জের নোমান হত্যামামলার ‘বাদি ও সাক্ষী খুনিদের স্বজন’

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকার বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন হত্যা মামলায় নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের ভাই রিয়াজ উদ্দিনের অভিযোগ, সন্দেহভাজন খুনিদের স্বজনদেরকে বাদি ও সাক্ষী বানিয়ে মামলা রেকর্ড করায় ন্যায়বিচার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এমন অবস্থায় নোমান উদ্দিনের ভাই ও চাচাসহ নিকটজনরা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও প্রকৃত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) তারা সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে লিখিতভাবে এ দাবি জানান।
এ সময় পুলিশ সুপার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।
স্বজনরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন, জকিগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া হত্যামামলাটি রহস্যজনক কারণে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৩০ বছর প্রবাসে থাকার পর নোমান উদ্দিন দেশে ফিরে কালিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন নতুন বাড়িতে স্ত্রী, দুই কন্যা ও শ্যালক হানিফ আহমদ সুমনসহ বসবাস শুরু করেন। বাড়িটির অর্ধেক স্ত্রীর নামে ও অর্ধেক নিজের নামে ছিল; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শ্যালক বাড়িটি তার নামে দলিল করে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছলে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিস বসেও কোনো সমাধান দিতে পারেনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এই বিরোধ নিয়ে পরিবারে কলহ লেগে থাকত। এমনকি নোমান উদ্দিন দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে গুজব ছড়িয়ে শ্যালক হানিফ আহমদ সুমন পরিবারে বিবাদ উসকে দিতে থাকেন।
আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে হানিফ আহমদ সুমন তার সহযোগী বাবুর বাজার এতিছামনগর গ্রামের মামই মিয়ার ছেলে মাজেদ আহমদ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার গোলাঘাট গ্রামের তাছকিন আহমদ তাজুলসহ কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে নোমান উদ্দিনকে দোকান থেকে বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে অস্ত্রের মুখে একটি লিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে তাকে চাপ দেওয়া হয়; কিন্তু তিনি রাজি না হলে তাকে মারধর করে এক পর্যায়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। প্রথমে মরদেহ ঘরের ভেতরে বাথরুমে রেখে পরে পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর ফেসবুকে ‘নোমান নিখোঁজ’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন শ্যালক হানিফ আহমদ সুমন। তা দেখে নোমান উদ্দিনের ভাই রিয়াজ উদ্দিনসহ স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়টি জানালে পুলিশ জানায়, এর আগেই হানিফ আহমদ সুমন সুমন ও নোমান উদ্দিনের আরেক শ্যালক মাজেদ আহমদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
রিয়াজ উদ্দিন জানান, ভাই নিখোঁজের ঘটনায় তারা দু’দিন ধরে থানায় মামলা করার আবেদন করলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। এরপর ১ অক্টোবর ধানক্ষেত থেকে নোমান উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তার অভিযোগ, মরদেহ দাফনের পরদিন তিনি ও তার চাচা থানায় গিয়ে বাদি হয়ে মামলা করতে চান; কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে নোমান উদ্দিনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নিকে বাদি করে ‘অজ্ঞাত আসামি’উল্লেখ করে মামলা রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ঘটনার পর শ্যালক হানিফ আহমদ সুমনকে গ্রেফতার করলেও তাকে মূল আসামি হিসেবে এফআইআরে নামোল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে ঘটনায় সরাসরি জড়িত বাবুর বাজারের মাজেদ আহমদ ও গোলাঘাট গ্রামের তাছকিন আহমদ তাজুলকেও আসামির তালিকায় রাখা হয়নি।
নোমান উদ্দিনের জানাজার সময় শ্যালক হানিফ আহমদ সুমন, মাজেদ আহমদ ও তাছকিন আহমদ তাজুল পলাতক ছিলেন। এখন পর্যন্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতার না করায় তারা মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে আলামত নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, সবদিক বিবেচনায় রেখেই পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের কোনভাবেই পার পাওয়ার সুযোগ নেই।