বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন-বিএনএনআরসির উদ্যোগে প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা ও ডিজিটাল উন্নয়নে কমিউনিটি রেডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা শীর্ষক কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দু’দিনব্যাপী এ কর্মশালা বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় শুরু হয়। এতে দেশের ৯টি কমিউনিটি রেডিও স্টেশন থেকে ১৮ জন সিনিয়র প্রোগ্রাম প্রডিউসার ও স্টেশন ম্যানেজার অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার মাধ্যমে তারা শ্রোতা-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির কৌশল সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন, যা প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে।
কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় বিএনএনআরসির ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স-টিএফজিবিভি এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটি নাগরিকতা : সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড কর্মসূচির অংশ। বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ। অর্থায়ন করেছে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।
কর্মশালার উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার প্রেক্ষিত ধরন, প্রভাব ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট, আইন/নীতিমালা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে রেডিও সম্প্রচারকারীদের সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান, সৃজনশীল ও শ্রোতাকেন্দ্রিক রেডিও অনুষ্ঠান, সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্টের ফরমেট, স্ক্রিপ্ট তৈরি, প্রযোজনা সংক্রান্ত কলাকৌশল দক্ষতা বাড়ানো ও রেডিও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর অধিকতর সম্পৃক্তকরণ বিষয়ে রেডিও সম্প্রচারকারীদের ধারণা প্রদান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কমিউনিটি রেডিও স্টেশনসমূহ হলো কমিউনিটি রেডিও নলতা ৯৯.২ এফএম (কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা), কমিউনিটি রেডিও লোকবেতার ৯৯.২ এফএম (বরগুনা),কমিউনিটি রেডিও পল্লীকণ্ঠ ৯৯.২ এফএম (মৌলভীবাজার), কমিউনিটি রেডিও সাগরগিরি ৯৯.২ এফএম (সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম), কমিউনিটি রেডিও চিলমারি ৯৯.২ এফএম (চিলমারি, কুড়িগ্রাম), কমিউনিটি রেডিও ঝিনুক ৯৯.২ এফএম (ঝিনাইদহ), কমিউনিটি রেডিও মেঘনা ৯৯.০ এফএম (চরফ্যাশন, ভোলা), কমিউনিটি রেডিও সাগরদ্বীপ ৯৯.২ এফএম (হাতিয়া, নোয়াখালী) ও কমিউনিটি রেডিও সারাবেলা ৯৮.৮ এফএম (গাইবান্ধা)
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান। তিনি কর্মশালার উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। কর্মশালাটি সমন্বয় করেন উন্নয়ন পরামর্শক রেহান উদ্দিন রাজু।
পরিচিতি পর্ব শেষে সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের ডেপুটি টিম লিডার ক্যাথারিনা কোয়েনিগ, নাগরিকতা : সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের লক্ষ্য, ফলাফল, অংশীদার, প্রশাসনিক কাঠামো ও সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আলোচনা করেন।
তিনি সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের তিনটি মূলনীতি সম্পর্কেও কথা বলেন। মূল নীতিগুলো হলো সহযোগী অংশীদারিত্ব ও সহ-সৃষ্টি, ‘কাউকে পিছনে ফেলে না যাওয়া’ এবং পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।
প্রথম দিনের সেশনগুলোতে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন আবু সাঈদ সুমন (ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার, জেন্ডার এন্ড হিউম্যান রাইটস্, ইউএনএফপিএ), শারমিন খান (লিগ্যাল কনসালট্যান্ট, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নট-ফর-প্রোফিট ল), ইমাম হোসেন (কো-অর্ডিনেটর, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট) ও শাকিল আহমেদ (হেড অব প্রোগ্রাম, রেডিও স্বাধীন)।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে সেশনগুলোতে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন মুবাশশিরা হাবিব খান (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ), আমীন আল রশীদ (রেডিও বিশেষজ্ঞ) ও শাহনাজ শারমিন (রেডিও বিশেষজ্ঞ)।
সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ার হোসেন (যুগ্মসচিব ও পরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়)।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আমরা যেমন বিভিন্ন দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি তেমনি নানা ভাবে হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছি।’
কমিউনিটি রেডিও যেহেতু গ্রামীণ এলাকায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করছে তাই বিভিন্ন রেডিও প্রোগ্রাম ও সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্টের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে কমিউনিটি রেডিও অত্যন্ত জোরাল ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।–সংবাদ বিজ্ঞপ্তি