নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের গোয়াইনঘাটে আওয়ামী লীগ আমলে অর্থ-বিত্তে এবং বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বলীয়ান মো শুক্কুর আলীর কবল থেকে উপজেলার ধর্মগ্রাম হাওর রক্ষায় এলাকাবাসী নবাগত জেলা প্রশাসক-ডিসি মো সারোয়ার আলমের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট/১১ ভাদ্র) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ৪টি গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ধর্মগ্রাম গ্রামের মোহাম্মদ সালেহ রাজা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ধর্মগ্রাম হাওর লান্দু, কোরিহাই, ধর্মগ্রাম ও খলাগ্রামের দরিদ্র মানুষের জীবন জীবিকার নির্ভরতা। প্রায় ৫০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় তারা এখানে মাছ ধরে বিক্রি করেন ও গরু-মহিষ পোষেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থর্মগ্রামের শুক্কুর আলী ‘নৌকা সমিতি’ গড়ে তুলে নিজের প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের কালো টাকার বস্তা যেতো তার দোকানে। এসব টাকায় তিনি বড় দোকানের মালিক হন এবং নিজের একটা বিশাল বাহিনী গড়ে তুলেন। এই বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের সময়ে যেমন ক্ষমতার দাপট দেখাতো-এখনও তাই করছে।
মোহাম্মদ সালেহ রাজা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর শুক্কুর আলীর নজর পড়ে ধর্মগ্রাম হাওরের ওপর। সরকার হাওরের জায়গা কেনাবেচা বন্ধ রাখলেও শুক্কুর আলী কিছু গরীব মানুষকে ৫/১০ হাজার টাকা করে দিয়ে জমি রেজিস্ট্রার করে নিয়েছেন।
তিনি জানান, এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তারা মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলায় তাকে গ্রেফতার করায় এবং মারধোর ও তার দোকান লুট করে। গ্রেফতারের পিছনে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতার হাতও রয়েছে।
মোহাম্মদ সালেহ রাজার অভিযোগ, হাওরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে তিনি উচ্চ আদালতে একটি রিট (নং ৮০৭৬/২০২৫) দায়ের করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে গত ২০ আগস্ট সচিব, গোয়াইনঘাটের ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তহসিলদার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন; কিন্তু দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শুককুর আলীর লোকজনের হুমকি-ধমকিতে তারা ফিরে যান।
এছাড়া ২/৩ দিন আগে শুক্কুর আরী ও তার লোকজন নিরীহ মানুষকে হাওরে গরু চরাতে নিষেধ করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়; কিন্তু তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা। এ অবস্থায় সরকারি সম্পদ রক্ষায় তারা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আজির উদ্দিন, আজিজুর রহমান, নিমার আলী, আব্দুল মালিক, নূরুল হক কটু, আব্দুল হক, আব্দুল খালিক ও সুলেমান রাজা।
তবে মো শুক্কুর আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।