এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রম সফলে সিসিক ওয়ার্ড সচিবদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

প্রকাশিত October 29, 2024
এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রম সফলে সিসিক ওয়ার্ড সচিবদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সিলেট মহানগরীতে চলমান কিশোরীদের বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রম সফলে সোমবার (২৮ অক্টোবর) নগর ভবনের সভাকক্ষে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড সচিবদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা মো জাহিদুল ইসলাম। সভায় তিনি এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলে সচিবদের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি জানান, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩১ হাজারের অধিক কিশোরীকে টিকা দানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ক্যাম্পেইন চলছে। এই কার্যক্রম সফলে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনে সবার সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।
ডা জাহিদুল ইসলাম জানান, জরায়ুমুখ ক্যান্সার হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস জনিত একটি প্রাণঘাতী প্রতিরোধযোগ্য রোগ। এই রোগ বাংলাদেশের নারীদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুতে দ্বিতীয়। অতিরিক্ত সাদা স্রাব, দুর্গন্ধযুক্তস্রাব, অনিয়মিত রক্তস্রাব, শারীরিক মিলনের পর রক্তপাত, মাসিক বন্ধ হওয়ার পর পুনরায় রক্তপাত, কোমর, তলপেট, উরুতে ব্যথা ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ। বাল্যবিবাহ, ঘন ঘন সন্তান প্রসব, ধূমপায়ী, এইডস রোগী, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন নন এমন নারীরা এই রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। কিশোর বয়সে এইচপিভি টিকা নিলে নারীদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়।
এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত নয় এমন ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের এক ডোজ এইচপিভি টিকা দেওয়া হবে। টিকা নিতে আগ্রহী ছাত্রীদের https://vaxepi.gov.bd/ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করা হচ্ছে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে কিশোরীদের ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত কিশোরীরাই বিনামূল্যে এই টিকা পাবে।
এইচপিভি টিকা পাওয়ার যোগ্য ছাত্রী বা কিশোরীরা নিজেদের উদ্যোগে অথবা বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় নিবন্ধন করতে পারবে। নিবন্ধনের পর ২৪ অক্টোবর থেকে পরিচালিত বিদ্যালয়ের ক্যাম্পিং থেকে এবং যারা অধ্যায়নরত নয় তারা মহানগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২৫২ জন নারী স্বাস্থ্যকর্মী টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ১ হাজার ৮ জন কর্মী। সিলেট মহানগরীর ৩৪৩টি বিদ্যালয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ৪২টি স্থায়ী টিাকাদান কেন্দ্রেও টিকা দেওয়া হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি