সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেছেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশ, যেখানে স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত নয় সেখানে টাইফয়েড বেশি দেখা যায়। এই রোগ থেকে বাঁচতে টিকা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। সরকার বিনামূল্যে শিশুদের টিকা দিচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিশুদেরকে টাইফয়েড থেকে রক্ষা করতে হবে।
টাইফয়েডের টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর/২২ আশ্বিন) নগর ভবনে আয়োজিত অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারা দেশের মতো সিলেট মহানগরীতেও টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। ইউনিসেফ ও ওয়ার্ল্ড হেল্থ প্রোগ্রামের আওতায় মাসব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচিতে মহানগরীর ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশু এবং প্রাক-প্রাথমিক থেক নবম শ্রেণি/সমমান পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ১ ডোজ টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে।
বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা মো জাহিদুল ইসলাম জানান , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিসিকের ইপিআই টিকা কেন্দ্র ছাড়াও টাইফয়েড ভ্যাকসিনের জন্য মহানগরীতে ৪টি স্থায়ী টিকা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ১২ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত পুরো এক মাস এসব টিকা কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। ছিন্নমূল ও পথশিশু যাদের জন্মনিবন্ধন নেই, তাদেরও টিকা প্রদান করা হবে। যাদের জন্মসনদ নেই তারা শুধু একবারই ভ্যাকসিন সনদ পাবে। আর নিবন্ধিতরা যখন প্রয়োজন তখনই অনলাইন থেকে ভ্যাকসিন সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন।
সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা সুফী মো খালিদ বিন লুৎফর।
অবহিতকরণ সভায় আরও বক্তব্য দেন, সিসিকের সচিব মো আশিক নূর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াত এরশেদ, সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আলী ফরিদ আহমেদ, সিলেট বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী পরিচালক আবুল মনসুর আসজাদ, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (রেজিস্ট্রেশন) জনি রঞ্জন দে, জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেটের সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রোগ্রামার তোফায়েল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।–সংবাদ বিজ্ঞপ্তি