হাসিনা সাফিনা বানু (উর্মি) আরণ্যক নাট্য দলে কাজ করছেন দীর্ঘ সময় ধরে। এই দলের একাধিক নাটকের অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। তবে এবার তার একক অভিনয়ের নাটক নিয়ে মঞ্চে হাজির হচ্ছেন। সপ্তর্ষি নাট্য দলের প্রথম প্রযোজনা ‘এবং প্রমিলা’ নাটকটি শুক্রবার, ১২ আগস্ট রাজধানীর বেইলী রোডে অবস্থিত মহিলা সমিতি মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মঞ্চায়ন হবে। নাটকটির মূল ভাবনা, গবেষণা ও একক অভিনয়ে হাসিনা সাফিনা বানু উর্মি। নাট্যরূপ অধ্যাপক আব্দুস সেলিমের। নির্দেশনা দিয়েছেন আরিফ হায়দার।
‘এবং প্রমিলা’ নাটকটি স্বাধীনতা যুদ্ধে পতিতাপল্লীর নারীদের ত্যাগের বিষয় অবলম্বন করে তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতা মুক্তিযুদ্ধের অনালোকিত অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবেন।
নাটকটির নেপথ্যে মঞ্চ পরিকল্পনায় রফিক উল্যাহ, আলো পরিকল্পনায় হাসিবুল হাসান দীপ্ত/ মোখলেছুর রহমান, পোশাক পরিকল্পনায় আরিফ হায়দার, সংগীত পরিকল্পনায় ইমরুল আসাদ/আব্দুল আলীম, ভৈরবী রাগে কৌশকী চক্রবর্তী ও অন্যান্য (সংগৃহীত), পোস্টার ডিজাইনে হাশিম মাসুদ, কোরিওগ্রাফিতে উর্মি, মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় জুবায়ের জাহিদ, সার্বিক সহযোগিতায় অ্যাডভোকেট কে এম সাইফুদ্দীন আহমেদ।
সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে সপ্তর্ষির প্রথম প্রযোজনা ‘এবং প্রমিলা’।
‘এবং প্রমিলা’ নাটক প্রসঙ্গে নির্দেশক আরিফ হায়দার জানান, নাটকের গল্পটাই উঠে এসেছে একজন অপসারিনীর জীবন বৃত্তান্ত থেকে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রমিলার অবদান সমাজের কাছে ‘বীরাঙ্গনা’ নাকি ‘বারাঙ্গনা’ পরিচয় বহন করবে-এমন একটা প্রশ্নের মধ্যে উর্মি অভিনয় করার চেষ্টা করেছেন।
হাসিনা সাফিনা বানু (উর্মি) বলেন, বেশ কয়েক বছর ‘এবং প্রমিলা’ নাটকের পটভূমিটি মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের অসংখ্য পতিতালয়ের নারীদের কি ভূমিকা ছিল সে বিষয়টি নিয়ে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে অবশেষে দেশের একটি পতিতালয়ে সরেজমিনে দেখে এসে এ নাটকের মূল ভাবনাটি লিখি। লেখাটি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রয়াত নাট্যজন শ্রদ্ধেয় মান্নান হীরা নাটকটি রচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন; কিন্তু কাজটি শুরু করার আগেই তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক আবদুস সেলিম নাটকটির পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দেন।-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি