সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর/১৫ কার্তিক) বাদ জুমা গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মদনগৌড়ি গ্রামে শহীদ যুবদল নেতা জিলু আহমেদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা করেন।
শহীদ জিলু আহমদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীসহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তিনি চৌধুরী বলেন, বিএনপির ডাকা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে অসংখ্য নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ শহীদের মর্যাদা অর্জন করেছেন। এরা শুধু পরিবারের নয়, জাতির গৌরব। তাদের স্মরণে বিএনপির নানা কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।
কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা সংবিধান থেকে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র, জুলাই সনদ পরিবর্তনের অপচেষ্টা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন-এই তিনটি উদ্যোগকেই দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শত শহীদের রক্তে লেখা জুলাই বিপ্লব কারও সম্পত্তি নয়। বিকৃতির সব ষড়যন্ত্রের জবাব একটাই-না।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা হলে সরকারের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হবে। আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে না, একই কেন্দ্রে ভোটারদের দু’টি ব্যালট দিলেই ভোট সম্পন্ন করা যাবে।
এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জীবনদানকারী শহীদদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে তাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব ও স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। প্রকৃত জাতীয় ঐক্য মানে জনগণের ঐক্য-তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে এই ঐক্য অটুট থাকবে-ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যেসব নেতা-কর্মী, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ গুম, খুন ও গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন-তাঁদের ত্যাগ জাতি কখনও ভুলবে না।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড এনামুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্মসম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান পাটোয়ারী রিপন, জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন, জেলা বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম, জেলা যুবদলের সহসভাপতি ময়নুল ইসলাম মঞ্জু, যুগ্মসম্পাদক লিটন আহমদ, সেলিম আহমদ শেলু, আনোয়ার হোসেন রাজু, সদস্য কাওছর আহমদ ও আব্দুল জলিল সমায়ুন। এছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মামুন আহমদ রিপন, যুগ্মআহ্বায়ক মো সালাউদ্দিন, পৌর যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক আজিজুল হক মুন্না, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক আলী আহমদ ও সুমন আহমেদ আনসার, কৃষকদল নেতা জুবায়ের আহমেদ শিমুল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে লালাবাজার শাহ সিকন্দর এলাকায় পুলিশের গাড়িচাপায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা জিলু আহমেদ শহীদ হন।–সংবাদ বিজ্ঞপ্তি