এ এস কাঁকন, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নানা নাটকীয়তায় অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা শেষ হয়নি। অব্যাহত রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। স্বাভাবিক হয়নি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি। বেশ উত্তেজনা বিরাজমান। এর জের ধরে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে গেছে।
উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৬ ডিসেম্বর। পরবর্তী সময়ে ৭ জানুয়ারি রাত ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান টিপু খানের বাসায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপি নেতা সেলিম আহমেদ ও তার পরিবারকে দায়ী করে মামলা করেন চেয়ারম্যান। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তার সমর্থকরা ১০ জানুয়ারি মানববন্ধনও করেন।
তবে এসব মিথ্যা ও অপপ্রচার দাবি করে এবং টিপু খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে রবিবার রাজনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সেলিম আহমেদ। এতে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন, নির্বাচনে টিপু খানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণেই তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, টিপু খান সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে ও প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তার ভাই সায়েদ খান ও দিপু খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী মামলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালে এ ইউনিয়নের কান্দিরকূল গ্রামের সেনের বাড়ি ও ডা আশুতোষ দেবের বাড়ি লুটপাটের অভিযোগে টিপু খানের পিতা আব্দুল হামিদ থান ও তার চাচা সৈয়দ খানের নামে মামলা হয় ১৯৭২ সালে। ১৯৯৬ সালে হত্যা চেষ্টা ও সন্ত্রাসী মামলায় ৫ মাস জেল খাটেন টিপু খান। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রাজনগর থানায় জিআর-৪০৩-২০০১ ও ৪০৪-২০২১ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী মামলা ছিল। টিপু খান যে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত তার প্রমাণ রাজনগর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল বণিকের দেওয়া তথ্যের ভিডিও আছে। মামলা দিয়ে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ আছে তার ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। তারা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন; কিন্তু অপকর্মের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়না।
টিপু খানের বাসায় ৭ জানুয়ারি রাতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে সেলিম আহমদ বলেন, সেদিন টিপু খান তাকে ফোনে জানান, তার ভাইয়ের সঙ্গে কয়েকজনের ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টির সমাধান করতে তিনি কুলাউড়া থেকে টেংরা বাজারে আসে। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি ও তার বাসায় ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার মামলায় তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। অথচ যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। পরে মানববন্ধন করে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে টিপু খানের ভাই সায়েদ খান ও তার অনুসারীরা বক্তব্য দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম আহমদ প্রশাসনের প্রতি ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, সেদিনের হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে।
তিনি তার পরিবারের প্রতি ন্যায় বিচার দাবি করে বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়নে তিনি ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেক অবদান রেখেছেন, যা এলাকার মানুষ দেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, আরজান খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও টেংরাবাজার বনিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রব, টেংরা বাজারের ব্যবসায়ী জিল্লু আহমেদ ও কাতার প্রবসী জগলু চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে রাজনগর উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।