ফিরে দেখা : বাঙালির গর্জে উঠার মার্চ প্রতিরোধের মার্চ স্বাধীনতার মার্চ ১৯৭১

প্রকাশিত March 5, 2022
ফিরে দেখা : বাঙালির গর্জে উঠার মার্চ প্রতিরোধের মার্চ স্বাধীনতার মার্চ ১৯৭১

আল আজাদ : ৬ মার্চ শনিবারে এসে স্পষ্ট হয়ে উঠে, বিক্ষুব্ধ পূর্ববাংলায় সবকিছু চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এক বেতার ভাষণে জানান, ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহবানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের বিক্ষুব্ধ জনতাকে দুষ্কৃতকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর জানমাল ধ্বংসের সব দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান।
আরো বলেন, এ অবস্থায় কোন সরকার নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।
ওইদিন সারা বাংলাদেশে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের লৌহকপাট ভেঙ্গে ৩৪১ জন বন্দি পলায়ন করেন। এ সময় তাদের উপর গুলি বর্ষণে ৭ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। কারাগারের ভেতরে ও আশেপাশে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
পল্টন ময়দানে বাংলা জাতীয় লীগের উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসু ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী গুদামজাত না করার আহবান জানান।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ন্যাপ (ওয়ালী)-এর এক গণসমাবেশে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়।
পাকিস্তান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, শিক্ষক সমিতি, মহিলা পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং শ্রমিক-কৃষক সমাজবাদী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সভা, সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।
টঙ্গিতে বিরাট শ্রমিক সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। অনেক শ্রমিক নেতা ও শ্রমিক সংগঠন গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়।
ছাত্রলীগ ও আরও কয়েকটি সংগঠন মশাল মিছিল বের করে। ঢাকা শহরে ছোট বড় অসংখ্য মিছিল বের হয়।